দখলমুক্ত হচ্ছে সদরঘাট

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঢাকা নদী বন্দরের এলাকার অর্থাৎ সদরঘাটের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা, আহসান মঞ্জিলের রাস্তার সামনে অবৈধ পার্কিং, শ্মশানঘাটের অস্থায়ী সবজির বাজার অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আসন্ন ঈদের পরপরই এসব এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হবে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর কড়াকড়ি নির্দেশনা এবং হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে ঢাকা শহরের চারদিকে নৌপথ দখলমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে সরকার। ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীতীরে ছোটবড় প্রায় ৩ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৫১ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে।

নদীর চারপাশে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণে সরকার ৮৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বেশকিছু অন্তরায় রয়েছে, যা চিহ্নিত করেছে নৌমন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে নদীতীরে যত্রতত্র ধর্মীয় উপাসনালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা, ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন নদীতে সংযোগ দেয়া, নদী পাড় দখল করে ফল ও সবজির বাজার স্থাপনসহ নৌযানের বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা উল্লেখযোগ্য।

গত ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকার চারপাশের নদীসমূহ ও তীরের অবৈধ দখলদার অপসারণ কার্যক্রমের সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নৌমন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ এসব তথ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, রাজউক, ভূমি মন্ত্রণালয়, ধর্মমন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবর রহমান। সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়ে ঢাকার আশপাশের নদীর তীরবর্তী সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়- নদীতীরে অবৈধ দখল উদ্ধার, দূষণরোধ এবং নদীরপাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের কোনো কাজ কবে, কিভাবে সম্পন্ন করা হবে তার একটি কর্মপরিকল্পনা করা হবে। ঢাকা নদী বন্দরের এলাকার আশপাশের অবৈধ স্থাপনা, আহসান মঞ্জিলের রাস্তার সামনে অবৈধ পার্কিং করা ফলের ট্রাক, শ্মশানঘাটের কাছে স্থাপিত অস্থায়ী সবজির বাজার অপসারণ করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আগামী এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারাদেশের নদী দখল, নাব্য রক্ষা, দূষণমুক্তকরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ঢাকা জেলার অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃত খালগুলোা চিহ্নিতকরণ এবং তা উদ্ধারকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ওয়াসার প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি (ফোর্থ পার্টি ফোরাম) গঠন করা হয়।

গঠিত ফোরাম নদী দখল, দূষণরোধে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবে। ঢাকার আশপাশের খালসমূহ চিহ্নিত করে ১ মাসের মধ্যে একটি ডাটাবেস তৈরি করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এছাড়া উচ্ছেদের পর ভবিষ্যতে নদীতীরে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন করবে কী না; জায়গা অবৈধভাবে দখল করবে কিনা না; তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

নদীতীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পরবর্তী সীমানা নির্ধারণে সীমানা পিলার নির্মাণ কার্যক্রমে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবর রহমান বলেন, নদীর জমি কারো দখলে রাখা যাবে না, এটা মুক্ত করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এজন্য সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।

এদিকে, প্রায় ১ মাসের মাথায় ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বৈঠক আহ্বান করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আজ সকালে নৌমন্ত্রণালয়ে সচিবের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সদরঘাটের কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তথ্য উপস্থাপন এবং বাকিগুলো উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেয়া হবে।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments