তারল্য সঙ্কটে টালমাটাল পুঁজিবাজার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গত কয়েকমাস ধরে উদ্যেক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির কারণে পুঁজিবাজারে তারল্য সঙ্কট বাড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া সব মিলিয়ে টালমাটাল অবস্থায় দেশের পুঁজিবাজার। আর পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা বের হয়ে যাওয়ায় এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। রোববার (২১ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে অব্যাহত বিক্রয় চাপে দর পতন অব্যাহত ছিল উভয় পুঁজিবাজারে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে পুঁজিবাজার বান্ধব অনেক প্রণোধনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারল্য সংকটের কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তারা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তাই বাজার বিনিয়োগ উপযোগ হলেও দর পতনে ভুগছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৯৬.৯৫ পয়েন্ট। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। এসময় লেনেদেন মন্দা অব্যাহত ছিল বাজারে। অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ১৮৫.০৩ পয়েন্ট। এদিন সিএসইতে ১৭ কোটি ০১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। ডিএসই ও সিএসই’র বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষনে দেখা যায়, রোববার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৩টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৬১টির, কমেছে ২৭৩টির এবং দর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় ডিএসইতে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৯টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

এসময় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬.৯৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩ পয়েন্টে। অপরদিকে, শরিয়াহ সূচক ১৮.৬৪ পয়েন্ট ও ডিএস-৩০ সূচক ৩০.১৫ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১ হাজার ১৫৭ ও ১ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৯৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার।

দিনশেষে টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের। এদিন কোম্পানিটির ২০ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ইউনাইটেড পাওয়ারের ১৫ কোটি ৬৬৩ লাখ টাকার এবং ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে ফেডারেলে ইন্স্যুরেন্স।

ডিএসইর টপটেন লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জেএমআই সিরিঞ্জ, বেক্সিমকো, সী পার্ল, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্স।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ দৈনিক জাগরণকে বলেন, গত কয়েকমাস ধরে উদ্যেক্তা পরিচালকরা তাদের শেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন। আর এসব অর্থের যোগান আর আসছে না। ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে তারল্য সঙ্কট। যার কারণে পুঁজিবাজারের এই অবস্থা। বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে যায় ক্রমশ দরপতন ঘটছে বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এসব বিনিয়োগকারী। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপিও দেন তারা। যে কারণে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করলেও আজ রোববার বিনিয়োগকারীদের কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

তবে তারল্য সঙ্কটের বিষটি মানতে নারাজ এ বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে দরপতন চলছে, তা ২০১০ সালের মহাধসের থেকে কোনো অংশে কম নয়। প্রতিনিয়ত আমাদের বিনিয়োগকারী ভাইয়েরা পুঁজি হারাচ্ছেন। বাজারে কোনো তারল্য সংকট নেই। কারসাজি চক্রের খপ্পরে পড়ে বাজারে এমন দুরবস্থা বিরাজ করছে। বাজারে যদি তারল্য সংকট থাকতো তাহলে আজকে কীভাবে ৩৬৫ কোটি টাকার উপরে লেনদেন হলো? ২০১০ ও ১৯৯৬ সালে যে চক্র বাজার থেকে ফায়দা লুটছে, তারাই আবার বাজারে সক্রিয় হয়েছে। আজ বড় দরপতনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আমরা যে দাবি করেছি, তার সবগুলো ন্যায্য। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান দিয়ে এ বাজার ভালো করা যাবে না বলে মনে করেন বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের এই নেতা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments