তারকাদের ঈদের স্মৃতি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

শোবিজ অঙ্গণের তারকাদের কাছে ঈদের ছুটি মানে ব্যস্ততার ফাঁকে একটু দম ফেলার সুযোগ। এই ছুটিতে তারা তাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে কয়টা দিন একটু নিজের মতো করে কাটান। অনেকে বেড়াতে যান গ্রামের বাড়ি আবার অনেকে যান দেশের বাইরে। ঈদের কিছু স্মৃতি নিয়ে তারকারা জানালেন তাদের কিছু ঘটনা।

আঁখি আলমগীর

আসলে ছোটবেলার ঈদটাই ছিল আনন্দের। রোজার ঈদের আনন্দটা যেন প্রথম রোজা থেকেই শুরু হয়ে যেত। অপেক্ষাই থাকতাম কবে ঈদ আসবে আনন্দে মেতে উঠবো । ঈদের অনেক আগেই বাবা ঈদের জামা-জুতা কিনে দিতেন। সেগুলো নিয়ে বাসায় ফিরেই লুকিয়ে রাখতাম। কেউ দেখতে চাইলে না করতাম। মনে করতাম কেউ দেখলেই বুঝি জামা-জুতা পুরনো হয়ে যাবে। তবে মাঝে মাঝে আমি গোপনে একা দেখতাম। যদি কোনো আত্মীয় বা বন্ধু আমাদের বাসায় আসতো সঙ্গে সঙ্গে আমি সেগুলো স্থানান্তর করে ফেলতাম। ঈদের দিন মায়ের হাতের রান্না খেয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যেতাম। আমার কাজিনরা আমার সমবয়সী হওয়ায় তাদের সাথেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতাম। দিন শেষে ঈদের সালামি নিয়ে হিসেব করতাম কে কত পেলাম। এখন আমি আমার বাচ্চাসহ অন্যান্য বাচ্চাদের ঈদ সালামি দেই। সালামি দেওয়ার মধ্যেও আমি একটা আনন্দ পাই।

মোশাররফ করিম

জন্মভূমি বরিশালে কেটেছে আমার দুরন্ত শৈশব ও কৈশর। ছোটবেলায় ঈদের জন্য সারা বছর মুখিয়ে থাকতাম আমরা। কাজিনদের সঙ্গে হই-হুল্লোড় করে বেড়াতাম। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। ঢাকায় আসার পর সেই দিনগুলি ভীষণভাবে মিস করি। নানা কাজের চাপে এখন বরিশাল তেমন একটা যাওয়া হয় না। বেশিরভাগ সময় ঢাকাতেই ঈদ করতে হয়। তবে এখনকার ঈদগুলোতে আর আগের সেই আমেজ ও উত্তেজনা খুঁজে পাই না। কোথায় যেন একটা কমতি দেখা দেয়।

পড়শী

২০০৮ সালে আমি ক্লাস ফোরে পড়তাম। সেবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মবাড়িয়ায় ঈদ করতে গেছি। ঈদের আগের রাতে কাজিনদের সাথে আলোচনা হলো- কীভাবে ঈদের দিনটা কাটানো যায়। আর কোথায় কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়। কিন্তু ঈদের দিন সকালে উঠেই সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। দেখি সারারাত বৃষ্টিতে আমাদের উঠানে একহাঁটু পানি জমে গেছে! কোথাও ঘুরতে যাওয়া তো দুরের কথা ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। কি আর করা জানালা দিয়েই একে অপরকে হাই, হ্যালো বলে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে হয়েছে।

নুসরাত ফারিয়া

আমার বেড়ে উঠা একান্নবর্তী পরিবারে। এমন পরিবারে ঈদ করাটা সত্যিই আনন্দের। আমার চাচাদের কাছ থেকে আমি জোর করে সেলামি আদায় করতাম। এনিয়ে কাজিনদের সাথে আমার প্রতিযোগিতা হতো। কে কত আগে এবং কত বেশি সেলামি সংগ্রহ করতে পারে। প্রত্যেক ঈদের দিনই আমি ভোরে উঠতাম। যে যতো আগে উঠতে পারবে তার ততো বেশি সেলামি অর্জন হতো। কিন্তু এক ঈদের দিন আমি ঘুম থেকে উঠতে দেরি করলাম। পরে দেখি আমার সব সেলামি কাজিনরা ভাগ করে নিয়েছে। এর পরের ঈদের আগের রাতগুলো নির্ঘুম কাটাতাম। যেন আমার সেলামি মিস না হয়। ভোর হতেই সেলামির জন্য দৌঁড় দিতাম।

মৌসুমী হামিদ

খুলনার গ্রামের বাড়িতে আমি আমার সব কাজিনদর সংগঠিত করেছিলাম। সবাই মিলে ‘সেলামি পার্টি’ গঠন করেছি। এটি একটি ঈদ উপলক্ষে মৌসুমী পার্টি। বছরে দুই ঈদে এই পার্টির কার্যক্রম চলতো। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঈদের দিন ভোরে আমরা পাড়ায় বের হতাম। চাচা-চাচি আর ফুফুদের কাছ থেকে সেলামি আদায় করতাম। কেউ না বলে আমাদের থেকে নিস্তার পায়নি। যে যাই হোক দিতে হবেই।

নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি

২০১২ সালের ঈদটা আমার কাছে খুব স্মরণীয়। ওইটাই মায়ের সঙ্গে কাটানো শেষ ঈদ। সে ঈদে আমার মা ( জোৎস্না হক ) খুব অসুস্থ ছিলেন। মায়ের এই অসুস্থতায় আমার খুব অভিমান হলো। মাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ঈদ এলেই অসুস্থ হয়ে পড় কেন ! মা হাসলেন। অসুস্থতা নিয়ে মা আমার প্রিয় চালের রুটি, গরুর মাংসের ভুনা রান্না করে দিলেন। ঈদের দিন সকালে আমার এই দুটো না হলে চলেই না। আর বড় ভাইয়ার পছন্দ ভুনা খিচুড়ি। আমাদের তিন ভাইবোনের জন্য মাকে যে কত পদের তরকারি রান্না করতে হয়েছিল। বেলা বাড়তেই অতিথিরা আসতে শুরু করলেন। তাদের আপ্যায়নের দায়িত্ব মা একাই নিতেন। এতটুকু বিরক্ত হতেন না তিনি। সে ঈদের পর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সে বছরের ডিসেম্বরে মা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।
এখন ঈদ আসলেই মাকে খুব মনে পড়ে। ঈদে আনন্দের দিনেও বাড়ি জুড়ে কেমন নিরবতা । কারণ একটাই, মা নেই।

স্বাগতা

তখন আমি একেবারে ছোট। ঈদ পড়েছে একুশে ফেব্রুয়ারিতে। ঈদের দিন সকালে আমরা তিন ভাইবোন সেজেগুজে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি কেউ নেই। সবাই ঈদের আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত। তখন আমার খুব গর্ব হলো, আমরা আর সবার মতো নই। আনন্দের দিনেও দেশের কথা ভুলে যাইনি। দেশাত্মবোধ থেকে আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসেছি।

মেহজাবীন চৌধুরী

আমার ছোটবেলা কেটেছে দুবাইতে। একবার ঈদে দেশে এসেছিলাম আমরা। চট্টগ্রামে নিজেদের বাড়ি যাচ্ছি , কী আনন্দ ! ওদিকে আমাদের আগমন উপলক্ষে বাড়ি জুড়ে নানা আয়োজন। জ্ঞান হওয়ার পর সেটাই ছিল বাংলাদেশে আমার প্রথম ঈদ। কোরবানি ঈদে দারুণ মজা করেছি। গরু নিয়ে কাজিনদের সঙ্গে কত মজা করেছি। চট্টগ্রামের ভাষা বুঝতাম না। কাজিনরা এ নিয়ে আমাকে ক্ষেপাত।

সায়মন সাদিক

ঈদ নিয়ে আমার অসংখ্য স্মৃতি। ঢাকায় আসার আগের ঈদের গল্পটা বলি। আমি ছিলাম ভীষণ দুরন্ত প্রকৃতির। শোলাকিয়া ঈদগাহ্ মাঠে নামাজ পড়ে বন্ধুদের নিয়ে ছুটলাম কিশোরগঞ্জ শহরের এক বাইসাইকেল স্টোরে। সেখান থেকে সাইকেল ভাড়া করে চলে গেলাম চামড়াবন্দর। সেখান থেকে নিকলী, করগাঁও ঘুরে আবার শহরে। ঘরে ফিরেছি অনেক রাতে। তারপর মায়ের সে কি বকুনি! আমার সেদিন খুব অভিমান হয়েছিল। অবশ্য পরে মা-ই সে অভিমান ভাঙান। চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার পর বন্ধুদের অনেককে কাছে পাই না। আসলে যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। এখন আর সারাবেলা ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ আমারও নেই। তাই বাধ্য ছেলের মতো ঘরেই থাকি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments