তদন্তে ইমিগ্রেশনে কঠোর আইন প্রয়োগের সুপারিশ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পাসপোর্ট ফেলে যাওয়া ভিভিআইপি বিমান বোয়িং-৭৮৭ এর পাইলটের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়নি। তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে- ‘পাইলট ফজল মাহমুদ ভুল করেই তার পাসপোর্ট ফেলে গেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সুনাম ক্ষুণ্ন বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়।’

তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার দুর্বল দিকগুলো শনাক্তসহ বিমানবন্দরের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ তুলে ধরেছে। আর এখনই গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়াসহ ইমিগ্রেশনে কঠোর আইন প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত এই তদন্ত কমিটি গত ১৬ জুন (রোববার) মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কি আছে, তা মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেখেননি বলে গতকাল (সোমবার) মন্ত্রিসভার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

গত ৬ জুন তিন দেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাতার যাওয়া বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার (ভিভিআইপি) বিমানের পাইলট ফজল মাহমুদ তার পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে না যাওয়ায় কাতার ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে দোহা বিমানবন্দরে আটক হন। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা থেকে পাসপোর্ট পাঠিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। তার স্থানে প্রধানমন্ত্রীকে আনতে অন্য আর একজন পাইলটকে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে গত ৭ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে পাইলট ফজল মাহামুদের পাসপোর্ট ছাড়া বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন অতিক্রম, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতার ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হওয়াসহ পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। সময় বাড়িয়ে তদন্ত শেষে কমিটি প্রধান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম ১৬ জুন প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য দৈনিক জাগরণকে জানান, ‘কমিটি পাসপোর্ট ফেলে যাওয়ার বিষয়ে পাইলট ফজল মাহমুদকে দীর্ঘ জেরা করেছে। তবে তাদের (তদন্ত কমিটির) কাছে বিষয়টিতে প্রতীয়মান হয়েছে- ‘পাইলট তার পাসপোর্ট ভুল করেই বলাকা ভবনে ফেলে গিয়েছিলেন। তারা বাইরে থেকে এসে তাদের নির্ধারিত কেবিনেটে পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণ করেন। এর পেছনে তার কোন উদ্দেশ্য ছিলো কি-না, বিশেষ করে দেশের বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সুনাম ক্ষুণ্ন করা বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে ছিলো কি-না, সে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি ফজল মাহমুদকে জেরা করেছে, তদন্ত করেছে। সার্বিক বিবেচনায় তদন্ত কমিটির কাছে মনে হয়েছে- বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল। সে কারণেই তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তির সুপারিশ করা হয়নি। তবে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কমিটি সূত্র আরো জানা গেছে, জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার দুর্বল দিকগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব অবহেলার জন্য (ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা) প্রায় দশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ অন্যত্র বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ করা হয়েছে বিমানবন্দরের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়েও। এসব বিষয়ে কমিটি এখনই ব্যবস্থা নেয়াসহ ইমিগ্রেশনে কঠোর আইন প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন এই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম, আর সদস্য সচিব ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম। কমিটির অপর দুই সদস্য ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-৪) মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box