ঢাল তৈরি বাউন্সারের

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ডেল স্টেইন মনে হচ্ছে খেলবেন। ক্রিস মরিস তো খেলবেনই—শুনে সামান্যই পরিবর্তন হলো মাশরাফি বিন মর্তুজার অভিব্যক্তিতে। হবেই বা কেন? দক্ষিণ আফ্রিকা তো বাংলাদেশেই চার পেসার নিয়ে ঝাঁপায়। সেখানে ইংল্যান্ডে, হোক ওভালের উইকেট, তবু বাংলাদেশের জন্য পেস কোয়ার্টেট পরিকল্পনা আজও বজায় রাখবেন ফাফ দু প্লেসিস।

ভাবনার জগতে এটা অনেক আগেই ডাউনলোড করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে আসার আগেই তামিম ইকবালরা জানেন যে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলো পাঁজর উচ্চতার বলে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে চাইবেন। আগাম পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারার একটা সুবিধা হলো, প্রস্তুতিটাও আগেভাগে নেওয়া যায়। তামিম-সৌম্য সরকাররা যে যাঁর মতো করে প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘এটা আমরা সবাই জানি। ওরা (দক্ষিণ আফ্রিকা) বেশি বেশি শর্ট বোলিং করবে। তবে আয়ারল্যান্ডে আমরা অনেকটা একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের যে বোলিং অ্যাটাক বিশ্বকাপে, তাদের অনেকে আয়ারল্যান্ডেও ছিল। একটা কথা কি, প্রস্তুতি তো যার যার নিজের ব্যাপার। আমি নিশ্চিত প্রস্তুতি সবাই নিয়েছেও। নইলে আয়ারল্যান্ডে আমরা সফল হতাম না।’

আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে, ব্যাটসম্যানরা দারুণ ব্যাটিংও করেছেন। তবে ওই সিরিজের উচ্চতা তো আর বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তা ছাড়া সেখানকার উইকেট এবং প্রতিপক্ষ—কোনোটিই বিশ্বকাপ মানের নয়। ডাবলিনের উইকেটে বল সাপের মতো ফণা তুলবে—খেলতে নেমে সে রকম কিছু মনে হয়নি তামিমদের। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরাও ত্রিদেশীয় সিরিজের চেয়ে অনেক ভালো বোলিং করেছে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে। তাই শর্ট বোলিংয়ের বিরুদ্ধে এক মাসের চেষ্টাতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশ—এমনটি দাবি করার সময় সম্ভবত এখনো আসেনি।

তবে আজ খেলা হবে ওভালের উইকেটে, ইংল্যান্ডের যে মাঠে বরাবরই উপমহাদেশীয় দলগুলো খেলতে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দবোধ করেছে। তা ছাড়া আইসিসির ওপর বরাবর নাখোশ বাংলাদেশের ক্রিকেট জনতার জন্য আরেকটি সুখবর আছে। একই উইকেটে ৪৮ ঘণ্টা আগে ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে প্রচণ্ড গতিতে ধেয়ে আসা বল থেকে গা বাঁচানোর চেষ্টা হয়তো করতে হবে না বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। বিপদের সবটুকু আশঙ্কা প্রথম ১০ ওভার। ওই সময়টা নিরাপদে কাটিয়ে দিতে পারলে সম্ভাবনার সরু গলি ছেড়ে রাজপথে উঠে যাবে বাংলাদেশের ইনিংস। দলীয় পরিকল্পনার এ অংশটা ঘুরে-ফিরেই গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন মাশরাফি, ‘এবারের বিশ্বকাপে সব দলই এসেছে মাথায় তিন শ, চার শ রানের চিন্তা নিয়ে। আমার ধারণা সে চিন্তা থেকেই বেশি স্ট্রোক খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসছে ব্যাটসম্যান। আমার বিশ্বাস শুরুতে একটু সতর্ক থেকে খেললে বড় ইনিংস গড়া সম্ভব।’

বলা হয়নি কেন স্টেইনের খেলার সম্ভাবনা দুর্ভাবনার ছাপ ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ অধিনায়কের অভিব্যক্তিতে। বাংলাদেশ দল যে মনে করে একালের ‘স্টেইনগানে’র চেয়ে লুঙ্গি এনগিডির কার্যকারিতাই বেশি, অন্তত নিজেদের কাছে! নাম নয়, অন্য বড় দলগুলোর মতো বল বুঝে খেলা যে শুরু করেছে বাংলাদেশও। তাই এ সময়ের এনগিডি কিংবা আন্দেলি ফেলুকোয়েওকে নিয়েই বেশি চর্চা হয়েছে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং সভায়।

সভা-সমিতি করা আর সেটির বাস্তবায়ন তো এক নয়, বরং বহুগুণ কঠিন। বাস্তবায়নের আগে জরুরি প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতিও যথাসম্ভব নিয়েছেন মুশফিকুর রহিমরা। এখানে চেয়েও মার্বেল স্ল্যাব জোগাড় হয়নি। তবে দেশে অনেক আগে থেকেই সে প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে পা রাখার আগে, সেই আয়ারল্যান্ড থেকেই চলছে নেটে শর্ট বোলিং খেলার প্রস্তুতি। তবে নেটেই তো সব সমস্যার সমাধান নয়, ম্যাচ খেলাই হলো প্রস্তুতির সর্বোচ্চ মঞ্চ। আয়ারল্যান্ডে সেটিও কমবেশি হয়েছে।

অবশ্য শর্ট বোলিং শুধু নেটে প্রস্তুতির ব্যাপারই নয়। বাংলাদেশের মতো অনভ্যস্ত দলের জন্য অনেকটাই মানসিক। একের পর এক শর্ট বল ধেয়ে এলে মনের জোর হারিয়ে ফেলা অসম্ভব নয়। তাই দলীয় সভায় মনকে শক্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, আয়ারল্যান্ড অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বাউন্সারের অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে। আবার শর্ট বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবহারিক মহৌষধ হলো পুল-হুক। সেসবে এখন আর আগের মতো পিছিয়ে নেই। তবে ওভালের মাঠের আকৃতির কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এক প্রান্তের মিড উইকেট বাউন্ডারি এতটাই দূরত্বে যে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেও ফিল্ডারকে দেখা গেছে সীমানাদড়ি থেকে গজ বিশেক ভেতরে দাঁড়াতে। তাই তুলে নয়, সাইড শট নিচে খেলার নির্দেশনা ব্যাটসম্যানদের দেওয়া হয়েছে কোচিং স্টাফদের পক্ষ থেকে।

দেখা যাক, খোলা মনে নিজেদের প্রস্তুতি এবং কোচিং স্টাফদের পরামর্শ মাঠে প্রতিফলন ঘটাতে পারেন কিনা ব্যাটসম্যানরা!

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box