ডেঙ্গু রোগীদের গ্রামের মশা কামড়ালে অন্যদের বিপদ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদের ছুটির সময় সারা দেশে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর বিস্তার শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তরা ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়ার পর গ্রামের এডিস মশা কামড়ালে তার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াবে অন্যদের শরীরে।

সোমবার (২৯ জুলাই) বিকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানান বিভাগের শিক্ষকরা।

পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সভাপতি ড. তাজউদ্দিন সিকদার বলেন, যে এলাকাগুলোয় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়নি, ওই এলাকায়ও কিন্তু এডিস মশা রয়েছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীরা শহর থেকে গ্রামে গেলে তাদের এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করবে মশাগুলো। সেই মশা সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে তারাও আক্রান্ত হবেন। এভাবে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে সারা দেশে। তাই এ সময় দেশবাসীকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

ড. তাজউদ্দিন সিকদার বলেন, দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ২০০০ সাল থেকে। তবে এ বছরের ডেঙ্গু রোগের লক্ষণের সঙ্গে বিগত বছরের ডেঙ্গু রোগের কোণ মিল নেই। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। এ বছর এখনো পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০-১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে বলে জেনেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ যেহেতু বাংলাদেশের একমাত্র হেলথ রিলেটেড এডুকেশনাল প্রতিষ্ঠান, সেই জায়গা থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমরাও এগিয়ে এসেছি। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিটি অনুষদে প্রিভেনশনাল সেল চালু করেছি। এ ছাড়া বিভাগের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু টেস্টের কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি।

ডেঙ্গুর মহামারি আকার ধারণ করার ব্যাপারে যে বিতর্ক রয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগের প্রভাষক ডা. সাবরীনা মুনাজিলিন সাংবাদিকদের বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে শহরগুলোতে ডেঙ্গু বিস্তারের যে মাত্রা তাকে আমাদের একাডেমিক জ্ঞানে মহামারিই বলতে হবে।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments