ডেঙ্গু পরিস্থিতি: রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলো

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঢাকার হাসপাতালগুলো ঘুরে ঢাকা ট্রিবিউন দেখতে পেয়েছে, প্রায় প্রতিটি হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর উপচেপড়া ভিড় এবং অনেকক্ষেত্রে বেড সংখ্যা সীমিত থাকায় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পরিমাণ রোগীকে অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে পাঠিয়ে দিচ্ছে

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকহারে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোকে।

ঢাকার হাসপাতালগুলো ঘুরে ঢাকা ট্রিবিউন দেখতে পেয়েছে, প্রায় প্রতিটি হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর উপচেপড়া ভিড় এবং অনেকক্ষেত্রে বেড সংখ্যা সীমিত থাকায় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পরিমাণ রোগীকে অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা মেলে ১১ বছরের ডেঙ্গু আক্রান্ত সাহারা মণির। তাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য ছয়ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এর আগে সে কয়দিনের জন্য মিরপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। মণির বাবা মোহাম্মদ শাহজাহান মণির চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছেন বলে জানান। লক্ষণগুলো মিলে যাওয়ায় সন্দেহ করছেন মণির ডেঙ্গুই হয়েছে।

তিনি জানান, “প্রথমে আমরা গ্রিনরোডের সেন্ট্রাল হসপিটালে গেলেও তারা ভর্তি না করায় মিরপুরের একটি হাসপাতালে ওকে ভর্তি করি। পরে সেখান থেকে এখানে পাঠানো হয়েছে।”

শিশু হাসপাতালে ৬শ’টির বেশি বেড থাকলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে বেশ বেড় পেতে হচ্ছে তাদেরকে।

হাসপাতালের জরুরিবিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাহমিনা জানান, “আমরা আসলে সব রোগীকেই ভর্তি করতে পারি না। বেশিরভাগ রোগী জ্বরে আক্রান্ত হলেই হাসপাতালে ছুটে আসছেন। তবে, আমাদের সকল আসন এখন পূর্ণ থাকায় তাদের সবাইকে ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কর্মকর্তা বলেন, “আজকেই আমরা অন্তত ৫৫টি শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের মধ্যে ১৫ শিশুর ডেঙ্গু লক্ষণ ছিলো।”

একই অবস্থা দেখা গেছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। সেখানকার বারান্দা ও সাধারণ ওয়ার্ডের মেঝেতে রোগীদের সারি দেখতে পাওয়া গেছে। এদেরমধ্যে, ৯৫% রোগী আসছেন জ্বর নিয়ে এবং ৯০% রোগীর শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু মিলছে বলে জানান জরুরিবিভাগের চিকিৎসক মুসলিমা ফেরদৌসি।

ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতিঃ

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণকক্ষ মহাপরিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ঘণ্টায় ৫৪৭জন রোগী নতুন করে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। কেবল জুলাই মাসেই মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬,৭৪৪ জনে। আর এবছর মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখনপর্যন্ত ৯,২৫৬ জন। এরমধ্যে, শুধু জুলাইতেই আক্রান্ত হয়েছেন মোট আক্রান্তের ৭৫%-৮০% রোগী। গত ১৯বছরের মধ্যে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডেঙ্গু আক্রান্তের রেকর্ড।

ডেঙ্গু কি তবে মহামারীর আকার ধারণ করছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা-ডব্লিউএইচও ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে ঘোষণা দিয়েছে। যদিও এই ঘোষণার পরেও অনেক রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন পরিস্থিতি আসলে নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে এবং একে ‘মহামারী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায়।

বিএমএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট রাশিদ-ই-মাহবুব ও হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড:মোহাম্মদ লুৎফুল এহসান ফাতমি দু’জনেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মনে করেন, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করেছে।

যদিও অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক বিদ্যুৎ কান্তি পাল ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে অতখানি ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ না করে একে ‘গতবছরের তুলনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এক অনুষ্ঠানে বলেন, গণমাধ্যম ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে অনেকবড় আকারে প্রকাশ করে গুজব ছড়াচ্ছে।

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক জানান, এডিস মশার বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না বলে অধিক পরিমাণে মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments