জোটের মধ্যে জোট!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মধ্যে আরেকটি জোট গঠনের কাজ চলছে। নতুন এ জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ নতুন জোটের ঘোষণা দেবেন। তার নেতৃত্বাধীন জোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কল্যাণ পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপাসহ আরও ৪/৫টি দল অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

২০ দলীয় জোটের বাইরে আরও কিছু দলকে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি এবং যুক্তফ্রন্টের শরিক জেবেল রহমান গাণির বাংলাদেশ ন্যাপ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরপ্রতীক সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তারা সারাদেশে জনমত গড়ে তুলবেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাবেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।

এর আগে গত ১৪ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, বর্তমানে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলে থেকে আমাদের নির্দেশ নেওয়া সম্ভব নয়। তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সম্ভব নয়। তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদেরই সেই দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমি সেই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বসে থাকলে চলবে না, এগিয়ে যেতে হবে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বিএনপির নেতাদের অনুরোধ করব- হয় আপনারা নেতৃত্ব দেন, নাহলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন।

তার ওই বক্তব্য এবং সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কিছু একটা করার ইঙ্গিত পাচ্ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিএনপি নেতারা এমনটা বুঝতে পারলেও দল ও জোটের বাইরে তিনি কিছু করছেন না বলে চিন্তিত নন। তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিসহ তাদের সমমনা সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, এলডিপির সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে তারা জানেন। তবে দলের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে কি না তা তার জানা নেই।

এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার আদায়ে কর্নেল অলি তার চিন্তা-চেতনা সবার সঙ্গে উন্মুক্ত করবেন। তাদের সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও সমাজের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এলডিপি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি ও জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে কাজ করতে চাইছেন কর্নেল অলি। তা যে কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে হোক না কেন। এ জন্য তিনি তার পুরনো দল বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন। বিএনপির শীর্ষ নেতার কাছে তার ওই বার্তা পৌঁছানোও হয় তখন। তবে তাকে কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় দলে নিয়ে আসার কার্যক্রম শুরু করা হবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডে।

বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, বিএনপিতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পর জ্যেষ্ঠতার দিকে কর্নেল অলি রয়েছেন। কিন্তু চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দল ত্যাগ করে নতুন দল গঠন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার কারণে তিনি তার অবস্থানকে নষ্ট করেছেন। এখন তাকে দলে ফিরিয়ে আনতে হলে তার পদ-পদবি নিয়ে জটিলতা বাড়বে। এছাড়া জ্যেষ্ঠতার কারণে তার সঙ্গে রাজনীতি করতেও অনেকে সহজভাবে নিতে পারছেন না। তাই বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন।

সূত্র জানিয়েছে, কর্নেল অলির রাজনীতি শুরু জিয়া পরিবার থেকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তর ঘনিষ্ঠতা দিয়ে তিনি এই পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এ পরিবারটির দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য এবং জাতীয়তাবাদের আদর্শের রাজনীতিকে আরও সক্রিয় করতে তিনি বিএনপিতে ফিরতে চান। এই দলের পরিচয় নিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করতে চান বলেও কয়েকজন নেতা সমকালকে জানান। এলডিপির নেতাকর্মীরা জানান, দলটির সব নেতাকর্মী বিএনপি থেকে আসা। তারাও চাইছেন তাদের পুরনো দলে ফিরে যেতে। নেতাকর্মীদের এমন মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন কর্নেল অলি।

এ বিষয়ে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, এক সময়ে তারা বিএনপি করতেন। তারা এখনও বিএনপির সঙ্গেই আছেন। একই প্ল্যাটফর্মে থেকে রাজনীতি করছেন। বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপিতে এখনই এলডিপি একীভূত হতে না পারায় তারা ভিন্নভাবে কাজ করতে চাইছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে, আলোচনায় থাকতে কর্নেল অলি খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে সরব ভূমিকা রাখতে চাইছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box