জেনে নিন অবাঞ্ছিত লোম কাটার বিধান

78

অবাঞ্ছিত লোম কাটা এবং রোজার সময় এর বিধান নিয়ে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে আজকের আলোচনা।

প্রশ্ন: আমি শুনেছি শরীয়াতে বিধান রয়েছে ৪০ দিন পর পর শরীরের বিশেষ বিশেষ জায়গার চুল কেটে/চেঁছে ফেলতে হয়, না হলে নামাজ বা ইবাদত কবুল হয় না। আমি গতবার কবে অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করেছিলাম সেটা মনে করতে পারছি না। আশঙ্কা রয়েছে ৪০ দিন পার হয়ে গেছে।

আর রোজা অবস্হায় কি অবাঞ্ছিত লোম চাঁছা যাবে? এতে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং চাঁছার পর কি গোসল করতে হবে?

উত্তর: ইসলাম স্বভাবজাত ধর্ম। মানুষের পরিচ্ছতা ও সৌন্দর্য এবং সুস্থতা ও কমনীয়তার নেয়ামত রক্ষায় ইসলামে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যার কারণে ইসলাম মানুষের শরীরের অবাঞ্ছিত লোম, নখ ইত্যাদি বিনা ওজরে চল্লিশ দিন পর কাটাকে মাকরূহ তাহরীমি বা গোনাহর কাজ বলেছে। এ মর্মে সাহাবি আনাস (রা.) বলেন,

وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ، وَنَتْفِ الإِبِطِ، وَحَلْقِ الْعَانَةِ، أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ يَوْماً.

অর্থাৎ: গোঁফ ছোট রাখা , নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভীর নিচের লোম চেঁছে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যেন, আমরা তা করতে চল্লিশ দিনের অধিক দেরি না করি। (মুসলিম ২৫৮)।

তবে অনেক সময় বলা হয়, এই সময় অতিক্রম করলে ইবাদত কবুল হয় না ; এই কথা ঠিক নয়।

আর রোজা ভঙ্গের সঙ্গে চুল, নখ ও অবাঞ্ছিত লোম কাটার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। রোজা নষ্ট হবার সম্পর্ক হলো পানাহার ও সহবাসের সঙ্গে। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদিস : ৭৪৬৮)। আর অবাঞ্ছিত লোম কাটার পর গোসল ফরজ হয় না।

উল্লেখ্য, ব্লেড, ক্ষুর বা কাঁচি দ্বারা গোপনাঙ্গের লোম পরিষ্কার করা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য জায়েয। অনুরূপভাবে হেয়ার রিমুভার জাতীয় কেমিক্যাল দ্বারা পরিষ্কার করাতেও শরীয়তের কোনো বাধা নেই। তবে পুরুষের জন্য চেঁছে ফেলা এবং নারীদের জন্য উপড়িয়ে ফেলা মুস্তাহাব। (কিতাবুল ফিকহ আ’লাল মাযাহিবিল আরবাআ’ ২/৪৫)।

উত্তর দিয়েছেন, মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

Facebook Comments