জামিন না হওয়া দুই মামলাতেই খালেদা জিয়া কারাদণ্ডপ্রাপ্ত

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪টিতেই জামিনে আছেন। ‘মাত্র দুটি’তে এখনো জামিন হয়নি।- বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, মামলার সংখ্যার সামনে ‘মাত্র’ শব্দটি বসিয়ে দিলেই তো হবে না। কারণ মামলার ‘ধরন’ হচ্ছে প্রধান বিষয়।

ব্যাখ্যা করে তারা বলেন, দুটি মামলার সংখ্যার সামনে ‘মাত্র’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা গণমাধ্যমের সামনে বিষয়টিকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করছেন, ওই দুই মামলাতেই খালেদা জিয়া কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। আর যেগুলোয় জামিন পেয়েছেন সেগুলো তো বিচারাধীন মামলা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘যেগুলো জামিন পাওয়ার সেগুলোতে তো জামিন হয়ে গেছে। এগুলো তো জামিন পাওয়ার মতোই। আর এই দুটিতে তো তার (খালেদা জিয়ার) সাজা হয়ে গেছে। তিনি এই দুটিতে দণ্ডপ্রাপ্ত। তাই এই দুটিতে জামিন পাওয়া একটু ডিফিকাল্টই হবে তার জন্য।’

সাবেক বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘জামিন হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে যুক্তির ওপর। এই দুই মামলায়ও খালেদা জিয়ার জামিন দেয়ার যৌক্তিকতা যদি আমরা আদালতে তুলে ধরতে পারি এবং আদালত তা যৌক্তিক মনে করে, তাহলে অবশ্যই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। এখানে মামলাগুলো বিচারাধীন না কি তিনি (খালেদা জিয়া) আসামি (দণ্ডপ্রাপ্ত), সেটি কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে যুক্তি।’

দুটি মামলায় (জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি) মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কারাভোগরত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি রয়েছেন।

জামিনে থাকা ৩৪টি মামলার মধ্যে ২১টি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, আর ১৩টি বিচারাধীন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) মানহানির দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খালেদা জিয়া।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত সপ্তাহে কয়েকটি অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আদালত যদি নির্দেশ দেয় তিনি জেলের বাইরে থাকবে, সেখানে সরকারের কোনো বাধা থাকতে পারে না।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদিন বলেন, আদালত কখনো অকারণে কাউকে কারাগারে রাখেন না। খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার জন্য যে সকল তথ্যা দরকার সবগুলোই রয়েছে। তাই একজন আইনজীবী হিসেবে মনে করি আইনগতভাবেই তার জামিন পাওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার রায়ের নথি বিচারিক আদালত থেকে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। আগামীকাল খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করবেন। এই মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের দণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও জামিন আবেদন করার কথা জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box