জাপানি ভেল্কি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জাপানিরা জাতি হিসেবে কর্মমুখী। সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা কমানোর প্রতিবাদে তারা আন্দোলন করেন, এমন খবর পুরনো। শুধু তাই নয়, নীতি-নৈতিকতায় তারা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। পদ্মা সেতুসহ দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজে যখন সময়ক্ষেপণ করে কৌশলে নির্মাণ খরচ বাড়ানো হচ্ছে; তখন নির্ধারিত সময়ের আগেই মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে জাপানি কোম্পানি। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বদলে নির্ধারিত অর্থের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বাঁচিয়ে সরকারকে ফেরত দিয়েছে। জাপানিরা প্রমাণ করেছে, তাদের কাছে শেখার আছে অনেক কিছুই।
গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা ‘কালো ছায়া’ ফেলে জাপানি বিনিয়োগে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয়। ওই হামলায় বাংলাদেশে কর্মরত জাপানিরা আক্রান্ত হওয়ায় সে প্রভাব পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মাণাধীন মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পেও। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্মাণকাজ করে রীতিমতো ভেল্কি দেখিয়েছে জাপানের তিন নির্মাণ কোম্পানি।

সড়ক ও সেথু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর জাপানের তিন নির্মাতা কোম্পানি প্রায় ৬ মাস কাজ বন্ধ রাখে। তারা এ জন্য প্রকল্প মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর আবেদন করেন। কিন্তু সেই ৬ মাস তো দূরে থাক, আগের সময় এক মাস হাতে থাকতেই নির্মাণকাজ শেষ করেছে। কেবল তাই নয়, খরচ কমিয়ে ‘ভেল্কি’ দেখিয়েছে। তিন সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েছে। অথচ পদ্মা সেতুসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলোর ব্যয় বেড়েই চলছে।

সূত্র জানায়, দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে উল্টো দফায় দফায় প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর ‘ধান্ধা’য় থাকে, সেক্ষেত্রে জাপানিরা তাদের ভেল্কি দেখিয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ করে। অন্য দিকে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ফেরত দেয়াও একটি জাপানি শিক্ষা।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৭ মাস আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া একই সময়ে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুও উদ্বোধন করা হবে। তিনি জানান, জাপানি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েছে।

সেতু বিভাগ জানায়, এক হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর রয়েছে ১৬টি পিলার। এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। আর পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য ব্যয় হবে ৪০০ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলে শুরু হবে পুরাতন সেতুর পুনর্নির্মাণ কাজ।

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী, ২০২০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তার বেশ কয়েক মাস আগেই নতুন সেতু নির্মাণ ও পুরাতন বিদ্যমান সেতুর সংস্কার কাজ শেষ হচ্ছে।

জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও স্টিল ন্যারো বক্সগার্ডারের ওপর নির্মিত হয়েছে এই সেতু। এ ধরনের প্রযুক্তিতে এটাই বাংলাদেশ প্রথম সেতু। এর আগে ভিয়েতনাম ও জাপানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments