জলিলের স্বেচ্ছাশ্রমে চলাচলের উপযোগী হলো রাস্তা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মেলান্দহে দিনমজুর আব্দুল জলিল প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তায় মাটি কেটে দিয়েছেন। এতে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হয়েছে।

স্থানীয় আব্দুল মোতালেব ও মেহেদী হাসানসহ অনেকে জানান, নিজের গরু বিক্রি করে জলিল মাটি কেটে দেওয়ার পর রাস্তাটি চলাচল উপযোগী হয়েছে। এখন যানবাহনও চলাচল করতে পারে।

জলিল জানান, রাস্তার দুরবস্থা দেখে আমি একদিন স্থানীয় মেম্বারকে বলি। তিনি আমাকে বলেন, বেশি দরদ থাকলে তুমিই রাস্তা করে দাও। এ কথার প্রেক্ষিতে রাস্তাটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই।

তিনি আরো বলেন, মাটি কাটার জন্য শেরপুর থেকে ভাড়াটে ঘোড়ার গাড়ি এনেছি। রাতের অন্ধকারে গাড়ির চাকা চুরি করেছে দুষ্কৃতকারীরা। এজন্য আমাকে জরিমানাও দিতে হয়েছে। রাস্তার জঙ্গল পরিষ্কারের সময় অনেক সাপ পোকামাকড় বের হলেও কামড় দেয়নি।

জলিল শেষ ইচ্ছা ব্যক্ত করে বলেন, আমার সহায়সম্বল দিয়ে রাস্তা করেছি। এখন রাস্তাটি পাকাকরণসহ টুপকারচর ও ৪ নম্বর চরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আশা করছি।

উপজেলার শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাতুজ্জামান সুরুজ মিলিটারি দিনমজুরের কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আব্দুল জলিল কখনো দিনমজুরি কখনো ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকানির্বাহ করেন। মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়ন এবং ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারি ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণের জটিলতার কারণে উন্নয়ন হচ্ছে না। এলাকাটি অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামিম আল ইয়ামীন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাটি আগে ইসলামপুর উপজেলায় ছিল। পরে মেলান্দহের আওতায় চলে আসে। সীমানা নির্ধারণের জটিলতা নিরসনে দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments