জমে উঠেছে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদের দিন বুধবার ( ৫ জুন) সারাদিনই ছিল বর্ষণমুখর। তার ঠিক উল্টো চিত্র পরের দিন অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুন)। সকাল থেকে খটখটে রোদ। এ খটখটে রোদের মধ্যেই ঈদের আনন্দ সময় কাটাতে রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রাজধানীর হাতিরঝিল, শ্যামলীর ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড (সাবেক শিশুমেলা), মিরপুরের ঢাকা চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের ঢল। পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ ভিড় জমিয়েছেন রাজধানীর নিকটবর্তী গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কেও। ভিড় জমিয়েছেন যমুনা ফিউচার পার্কের অ্যামিউজমেন্ট পার্কেও।

আশুলিয়া এলাকার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক এবং নরসিংদী এলাকায় স্থাপিত ড্রিম হলিডে পার্কেও দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়। রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই তিনটি পার্ক।

ঈদ আনন্দ যেন উপচে পড়েছে রাজধানীর হাতিরঝিলে। রাজধানীবাসীর ঘুরতে যাওয়ার পছন্দের অন্যতম স্থান এখন হাতিরঝিল। তাই সকাল থেকেই নগরবাসীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে হাতিরঝিল। বিনোদনপ্রেমী মানুষ উপভোগ করছেন হাতিরঝিলের সৌন্দর্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতিরঝিলে বাড়তে থাকবে উৎসবপ্রিয় মানুষের সংখ্যা।

নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয় চক্রাকার বাস, ওয়াটার বোট। তাই পরিচ্ছন্ন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আকর্ষণ করে ঈদমুখর মানুষকে। সন্ধ্যা হতে হাতিরঝিল সাজে রঙিন রূপে। চোখ ধাঁধাঁনো রঙিন আলোয় ঝলমলে হয়ে ওঠে পুরো হাতিরঝিল। রঙ-বেরঙের দৃষ্টিনন্দন বাতি হাতিরঝিলকে এনে দেয় নজরকাড়া সৌন্দর্য।

শ্যামলীর ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ডে (সাবেক শিশুমেল) সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মা-বাবার হাত ধরে শত শত শিশু, কিশোর-কিশোরী হাজির সেখানকার বিভিন্ন রাইডে চড়তে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যারা রাইডগুলোতে চড়ার সুযোগ পাচ্ছিল তাদের বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়।

ওয়াল্ডারল্যান্ডের ম্যানেজার আবুল কালাম দৈনিক জাগরণকে বলেন, শিশুদের বিনোদন দিতে এখানে সব রকমের রাইডের ব্যবস্থা আছে। বড়দের জন্যও রয়েছে আলাদা রাইড। তিনি জানালেন, তাদের জনপ্রিয় রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে মেরি গো রাউন্ড, চুক চুক ট্রেন, ওয়ান্ডার হুইল, প্যারাট্রুপার, হানিসুইং, সোয়ান অ্যাডভেঞ্চার, বাম্পার কার, টুইস্ট, স্পেস শ্যাটল, মিনি রোলার কোস্টার। এই বিনোদন কেন্দ্রের প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা। রাইডগুলোতে চড়তে প্রতিটির জন্য দিতে হবে ৫০ টাকা করে।

সাত বছর বয়সী ছেলে ও পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে ওয়ান্ডারল্যান্ডে ঘুরতে আসা শ্যামলীর বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার বলেন, ছুটি সময় কিংবা সুযোগ পেলেই সন্তনদের নিয়ে শিশুমেলায় আসি। বিভিন্ন রকম রাইড থাকায় শিশুরা এখানে অনেক আনন্দ পায়। ঈদের দিন আসতে পারি নাই বৃষ্টির কারণে। আজ এসেছি। তবে প্রচণ্ড ভিড়। তারপরেও বাচ্চাদের অনেকগুলো রাইডে চড়াতে পেরেছি।

সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে শ্যামলীর এই শিশু কিশোর বিনোদন কেন্দ্রটি।

ওয়ান্ডারল্যান্ডের ব্যবস্থাপক এ বি এম মোয়াজ্জেম হোসেন দৈনিক জাগরণকে বলেন, ঈদ কিংবা অন্য কোনো উৎসব ও জাতীয় ছুটির দিনে এই বিনোদন কেন্দ্রে বেশি দর্শনার্থী থাকে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী এখানে আসে।

পরিবারের সদস্যদের পদচারণায় মুখর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শ্যামলীর শিশু মেলা যা বর্তমানে ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড নামে পরিচিত।বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেখানে বাড়তে থাকে ভিড়। প্রতিটি রাইডের সামনেই ছিল একইচিত্র। শিশুদের সঙ্গে বড়রাও চড়েছেন বিভিন্ন রাইডে।

মিরপুরের চিড়িয়াখানাতেও দর্শনার্থীর সমাগম চোখে পড়ার মতো। বাঘ ও বানরের খাঁচায় উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত দর্শনার্থী সেখানে প্রবেশ করছেন। হুমায়রা নামে শেওড়াপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, ঘনিষ্ট এক বন্ধুকে ঈদে সাথে পাওয়ায় চিড়িয়াখানার মতো একটা খোলামেলা জায়গায় ঘুরতে এসেছেন তিনি।

চিড়িয়াখানায় শিশু-কিশোর বয়সী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিই বেশি দেখা যায়। অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে ঘুরছেন এখানে-সেখানে।

বিভিন্ন খাঁচার সামনে শিশুদের কৌতূহলী চোখ। জিরাফ বাঘ কিংবা সিংহ দেখে নবীন চোখে হাসির ঝিলিক।

বাহানা শিশুদের হলেও চিড়িয়াখানায় অভিভাবকদের আনন্দ চোখের পড়ার মতো। তবে ছায়া সুনিবিড় জাতীয় চিড়িয়াখানায় উপচে পড়া দর্শনার্থী থাকলেও সকল খাঁচায় প্রাণী না থাকার অভিযোগ করছেন নগরবাসী।

একটি শিশু বলেন, আমার অনেক আনন্দ লাগছে। শুধু হরিণ আর বানর দেখেছি এখন বাঘ দেখতে যাচ্ছি। একজন বলেন, কালকে বৃষ্টির জন্য বাইরে বের হতে পারিনি। তাই আজকে সেটা পূরণ করে নিলাম।

চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা ওলিউর রহমান বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে চিড়িয়াখানার দ্বার। তবে ঈদ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার প্রচুর মানুষ এসেছেন। ঈদের দিনে বৃষ্টির জন্য দর্শনার্থীরা বেশি আসেনি।

ফাঁকা রাজধানীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন লাখো মানুষ। ভিড় যেমন করছেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে, তেমনি সিনেমা হলগুলোতেও দেখা গেছে উৎসবপ্রিয় মানুষের ভিড়।

ঈদের ছুটিতে পাল্টে গেছে চিরচেনা রাজধানীর রূপ। অনেকেই এই সুযোগে বেরিয়ে পড়েছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। বুধবার সারাদিন বৃষ্টি থাকায় ঈদ বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় বিনোদন কেন্দ্র মুখি হয়েছেন ঢাকাবাসী।

বিনোদন পেতে রাজধানীর আফতাবনগরের পূর্বাংশের খোলা জায়গায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পেছনে তিনশ ফিট সড়কের পাশে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেছে।

ঢাকার অদূরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেও দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র, পাখিশালা কিংবা নানা প্রজাতির প্রাণীর সাথে নিরাপদ দূরত্ব রেখেই চলছে আনন্দ উদযাপন।

শিশু পার্ক ও জাদুঘর বন্ধ
সংস্কারের কাজের জন্য বন্ধ শাহবাগের কেন্দ্রীয় শিশু পার্ক। অনেকেই এ তথ্য না জানায় এখানে এসে পার্ক বন্ধ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। শিশুপার্ক বন্ধ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় শাহবাগ শিশুপার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ।

জাদুঘরও বন্ধ। অনেক দর্শনার্থী রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে। জাদুঘরের কিপার শিহাব শাহরিয়ার জানান, ঈদের দিন খোলা ছিল। এদিন শিশু-কিশোর, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য বিনামূল্যে জাদুঘরে প্রবেশ করতে পেরেছে। বৃহস্পতিবার জাদুঘরের সাপ্তাহিক বন্ধ। শুক্রবার (৭ জুন) থেকে আবার যথাসময়ে চলবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box