জন্ম নিবন্ধন অনলাইন সংস্করণের বিড়ম্বনায় মহেশখালীবাসী

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, সিনিয়র রিপোর্টার

চলমান জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অধিনে ভোটার নিবন্ধন পক্রিয়াকরনে কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা শনাক্তকরণের জন্য কটোর পদক্ষেপ নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রসাশক ফলে কক্সবাজার জেলার সত্যায়িত একজন নাগরিক নতুন ভোটার হতে চাইলে তাকে জম্ম নিবন্ধনের কপি, জম্ম নিবন্ধনের অনলাইন সংস্কারের কপি, পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র, মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র, ও দুই ফুফির জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, জমির খতিয়ান নাম্বার, বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার এবং বিদ্যুৎ বিলের কপি যদি থাকে সবগুলো জমা দিতে হচ্ছে ভোটার নিবন্ধন তালিকাকারীকে। তবে বিগতদিনে ভোটার নিবন্ধনের সময় জম্ম সনদ অনলাইন সংস্কারের প্রচলন ছিলোনা বলে অনেকেই গুরুত্বের সাথে জম্ম সনদ অনলাইন হালনাগাদ করেনি, যার ফলে এখন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অনেক নাগরিককে, বিশেষ করে কক্সবাজার জেলায় মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যাতে কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হতে না পারে সে দিকে এই জেলাতে বিশেষ নজরদারীতে রেখেছে বাংলাদেশ সরকার।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী মানবিক কারনে সরকার ১০/১১ লাখ রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশুদের এ জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় দিয়েছে। সে সময় পালিয়ে আসা বিনদেশী নাগরিকেরা এদেশের নাগরিক হিসেবে জন্ম নিবন্ধন করার আশঙ্কায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলার জন্ম নিবন্ধন কার্য্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং বিশেষ করে কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধন কার্য্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি নিবন্ধিত নাগরিকদের অনলাইন সংস্করণ করে নেওয়ার ঘোষনা দিয়েছিলো জেলা প্রশাসক। সে সময় অনেক নাগরিক অনলাইন হালনাগাদ করার সুযোগ পেয়েছিলো কিন্তু হঠাৎ অনলাইনও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবার অনেক নাগরিক বঞ্চিতও হয়েছিলো।

এদিকে জম্ম নিবন্ধন অনলাইন সংস্করণের কার্যক্রম অনলাইনে বন্ধ থাকা সত্বেও একদল চক্র অবিকল সম্পাদিত ভূয়া জম্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা, অপরদিকে মহেশখালীর কালারমার ছড়া ইউনিয়ন পরিষদে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে জম্ম নিবন্ধনের অনলাইন জাল কপি দেওয়ার অভিযোগ করেছে সাধারন জনতা, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি পরিষদের কোন কর্মী সেই কাজে লিপ্ত নেই বলে জানান, এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে বলেও জানান তিনি।

আবার অনেক অনলাইন হালনাগাদ বিহীন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন গতবার যে জম্ম নিবন্ধনের অনলাইন হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো তখন পক্ষ পাতিত্যের জেরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক শরীফ ৬নং ওয়ার্ড থেকে ৯নং ওয়ার্ড পর্যন্ত হাতেগুনা কয়েকজন ছাড়া আর কাউকেই হালনাগাদ করেনি। এনিয়ে উল্লেখিত ওয়ার্ডগুলোর নাগরিকদের মধ্য ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এনিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রসাশক কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন জেলার সত্যায়িত নাগরিকগন নাগারিকত্বতার জন্য জম্ম নিবন্ধন অনলাইন হালনাগাদ নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন প্রেরণ করেছি যা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আমরা ফিডব্যাক পাওয়া মাত্রই সব জায়গায় নোটিশ আকারে জানিয়ে দিবো, এবং এই সুযোগে যে বা যারা ভূয়া অনলাইন ভেরিফাই কপি দিয়ে সাধারন নাগরিক থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments