ছোটপর্দা আমার দ্বিতীয় জন্মস্থান

আলোকিত সকাল ডেস্ক

শোবিজের জনপ্রিয় মুখ মনিরা আক্তার মিঠু। বিভিন্ন সময় ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। সাবলীল অভিনয় ও চরিত্রের বদলে দর্শক মনে জায়গা করে নিয়েছেন প্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে। সম্প্রতি বিএফডিসির তিন নম্বর ফ্লোরে শুটিংয়ের ফাকে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলাপ হয়েছে তার সঙ্গে। আলাপের চুম্বক অংশটুকু তুলে ধরেছেন আল কাছির

‘মিষ্টির লড়াই’ নিয়ে বলুন—
এনটিভির একটি শো। কলকাতা থেকে একটি দক্ষ টিম আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। আমরাও অনেক কষ্ট করে কাজটি করছে। সবাই রিহার্সেল করেছে কিন্তু আমি রিহার্সেল করার সয়ম পাইনি, সরাসরি শুটিং করছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার পারফমেন্সে আমি খুশি।

‘আদম’ ছবিটি নিয়ে বলুন—
আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এ ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছবিতে আমার চরিত্র সৎ মা। প্রথমে চরিত্রটি ছিল নেগেটিভ। আমি পরিচালককে বলেছি, নেগেটিভ চরিত্র আমি কাজ করব না। কারণ ‘ভাইজান এলো রে’ ছবিতে নেগেটিভ চরিত্র করেছি, সেটা আমার নিজের কাছে আরামদায়ক মনে হয়নি। এছাড়া প্রতিবছরই অনেক নেগেটিভ চরিত্রের প্রস্তাব আসে। ‘আদম’ ছবির প্রস্তাবে প্রথমে না করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ছবির পরিচালক আমাকে অনেক অনুরোধ করেছিলেন। তারপর স্ক্রিপ্ট দেখে আমি কিছু কারেকশন দিলাম, পরিচালক তাতে রাজি হয়েছেন। আমার চরিত্রটি পজেটিভ করলাম গল্পের সঙ্গে মিল রেখেই। ব্যাস, এবার শুটিং শুরু করার পালা।

ছোটপর্দা নিয়ে বলুন—
ছোটপর্দা আমার দ্বিতীয় জন্মস্থান। নাটক দিয়েই আমার জীবন শুরু। নাটকই আমার জীবন, মরণ, সবকিছু। কিন্তু এখন নাটক করতে বিরক্ত লাগে, ভীষণ ক্লান্ত লাগে। কারণ গল্প ভালো না, অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সেক্ষেত্রে ফিল্ম আমাকে খুব বেশি আনন্দ দেয় এবং খুব বেশি আরামদায়ক। কিন্তু আমাদের ফিল্মেরও তো অনেক প্রতিকূলতা রয়েছে।

ধারাবাহিকের গল্প—
ধারাবাহিকের গল্পের খুবই করুণ দশা। মারাত্মক বাজে অবস্থা। কারণ ভালো নির্মাতারা ধারাবাহিক নির্মাণ করছেন না। তাদের কেউ কেউ ফিল্ম করছেন, কেউ বিজ্ঞাপন নির্মাণ করছেন। আবার কেউ মাঝে মাঝে দুই একটা কাজ করছেন। সবমিলিয়ে ধারাবাহিকের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তবে এর মধ্যে কিছু ধারাবাহিক বেশ সাড়া ফেলেছে। তার মধ্যে কাজল আহমেদ অমির ‘ব্যাচেলর’। এ নাটকটি থেকে আমি বেশ সাড়া পেয়েছি। ‘হাউজফুল’ ধারাবাহিকের পর একটি থেকে আমি খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। আরেকটি হলো মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’। এই নাটকটি থেকেও আমি খুব রেসপন্স পাচ্ছি। আপনারা এখন নেগেটিভ চরিত্র দেখছেন আমার। কিন্তু গল্পের শেষে দর্শক আমার জন্যই কাঁদবেন।

ঈদের ব্যস্ততা নিয়ে বলুন—
‘মিষ্টির লড়াই’ শোটি করতে গিয়ে অনেক ঈদের নাটক ছেড়ে দিতে হয়েছে। কারণ আমি এই টিমকে কমিটমেন্ট করেছিলাম। আমি কমিটমেন্ট রক্ষা করার চেষ্টা করি খুব। সেটা আমার ব্যক্তিগত জীবনে হোক বা কাজের ক্ষেত্রেই হোক। এর আগে ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবির শুটিং সাতদিন ছিলাম ফরিদপুরে। তখন সাতদিনে পাঁচটি নাটকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। আর এই শোটি করতে গিয়ে আরও চারটি নাটক ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। তবে, সামনে মোস্তফা কামাল রাজের দুটি ঈদের নাটকে কাজ করার কথা রয়েছে।

কোন চরিত্রটি এখনো করা হয়নি?
পুলিশ চরিত্রটি এখনো করিনি। এ চরিত্রটি করা ইচ্ছা আছে। কারণ, আমি খুব সুক্ষ্ম কমেডি পছন্দ করি। পুলিশ চরিত্রে আমরা যেসব ফান দেখি সেগুলো আমার কাছে পারফেক্ট মনে হয় না। সেদিক থেকে মনে হয়, একজন হ্যান্ডসাম পুরুষ পুলিশের সঙ্গে আমি কমেডিয়ান মহিলা পুলিশ থাকলাম। আমরা মনে হয়, দুজনের কমেডি নিয়ে বেশ জমজমাট একটি প্লট হতে পারে।

আপনার দর্শকের উদ্দেশ্যে বলুন—
দর্শক হচ্ছে আমার কাছে দেবতা। আপনাদের ভালোবাসা যতদিন আছে ততদিন আমি আছি। তাই দর্শক আপনারা আমার জন্য মন থেকে দোয়া করবেন। আপনাদের প্রতি রইল আমার অনেক ভালোবাসা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments