চৌহালীতে থেমে নেই বালু উত্তোলনঃভাঙ্গছে নদী

মোঃইমরুল হাসান চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

চৌহালী উপজেলায় একশ্রেনীর বালু ব্যাবসায়ীরা কালো টাকার পাহাড় গড়তে অবৈধ ভাবে ড়্রজোর ও ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করছে, নজর নেই কর্তৃপক্ষের। কড়ালগ্রাসী যমুনার ভাঙন ও বালু মহলের তান্ডবলীলায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার প্রায ২০ গ্রাম হুমকিমুখি।

যমুনায় পাল্লা দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে বালু ব্যাবসায়ীরা। বিশেষ করে উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলে বালু ব্যাবসায়ীদের দখলে যমুনা নদীর পার। গত বর্ষা মৌসুমে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তৃীর্ন ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখনই বালু উত্তোল রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৬টি হাট বাজার,তাঁতীপাড়া,পাকা সড়ক, ব্রীজ,আবাদী জমি বহু ঘরবাড়ি ও কবরস্থান নদীতে বিলীন হবার আশংঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের বাঘুটিয়ার বিনানই ও দক্ষিন চরসলিমাবাদ এলাকায় কেহ ভেকু দিয়ে, কেহ জ্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে এলাকার বালুদশ্যু মোঃ ফারুক ও রফিকসহ বেশ কয়েকজন। ওরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নাগরপুর সহ বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, চৌহালী উপজেলার রেহাই পুখুরিয় নতুন পাড়া, খাষপুখুরিয়া ও চরসলিমাবাদ ভুতের মোড় পর্যন্ত এলাকায় নদীতে অভাধে চলছে বালুউত্তোলন। অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিনিয়তই নদীর পেটে যাচ্ছে বসত বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট,কাচা-পাকা সড়ক,ফসলী জমি, ব্রীজ, কবরস্থান সহ বিভিন্ন স্থাপনা। একদিকে বালু তোলা অপরদিকে ভাঙ্গন হুমকিতে স্থাপনা, বর্ষার আগেই ভাঙ্গন কবল থেকে সরিয়ে নেয়া হয কয়েকটি শিক্ষা অঙ্গন বললেন (ভার,)শিক্ষা অফিসার মনিরুজ্জামান খান।

এলাকার ভুক্তভোগি শিক্ষার্থীরা বলেন, উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলে যমুনার ভাঙন আর বালু উত্তোলনে এলাকায় ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। এখনই বালু উত্তোলন ঠেকানো না গেলে চৌহালীর বাকি অংশ মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে থাকবে না। এলাকার অভিভাবকদের অভিমত শিক্ষা অঙ্গন বাঁচলে পাঠদান বাঁচবে,তাঁতী পাড়া বাঁচলে বস্ত্র থাকবে, বাড়ি বাঁচলে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাবে,সড়ক থাকলে গাড়ি চলবে, জমি থাকলে খাদ্য আসবে। সকল স্থাপনা বাচার একমাত্র উপায় ড়্রজোর ও ভেকু বন্ধ। আমরা ওদের কাছে জিম্মি, সরকারের কাছে সাহায্য চাই না ভাঙ্গন রোধ চাই, আমরা বাঁচতে চাই, আমরা বাঁচলে সরকারের শতভাগ শিক্ষা ও উন্নয়ন হবে এমনি প্রত্যাশা চৌহালী বাসির।

এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির জানান, উপজেলায় কোথাও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না, তবে যদি কেহ নদী থেকে বালু উত্তোলন করে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আ/এসআইসু

Facebook Comments Box