চার দলের নাম করে একটি দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে বিশ্বকাপে!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ইংল্যান্ডের মাটিতে ক্রিকেটের দ্বাদশ বিশ্বকাপে চোখ রাখার আর কোন কারণ আছে বলে মনে হচ্ছে না! সেমিফাইনালের চারটি দলকে বেছে নেয়ার লক্ষ্যে রাউন্ড রবিন লীগ পর্বে যা চলছে- তাতে এ কথা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।

আইসিসি হয়তো চার দল নয়- বেছে নিতে চাইছে মাত্র একটি দলকে। সেমিফইনালের তিনটি দল ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার জায়গা পাকা। চতুর্থ দল হিসেবে একটি দল প্রয়োজন। সেমিফাইনালের চতুর্থ দলটি ঠিক করতেই মূলত এখন চলছে বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্থানের মধ্যে মাঠের লড়াই!

এমন প্রশ্ন উঠানোর অনেকগুলো ঘটনা এরই মধ্যে ঘটিয়ে ফেলেছে আইসিসি। প্রথমত, কাড়ি কাড়ি অর্থের যোগান দিয়ে আইসিসিকে বেশ আগে থেকেই নিজেদের পকেটে পুরে রেখেছে ভারত। তাই তো, আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে আইপিএল খেলে ক্লান্ত-শ্রান্ত ভারতীয় দলকে বিশ্রাম দিতে বিশ্বকাপ শুরুর ছয় দিনের মাথায় প্রথমবারের মতো মাঠে নামে ভারতীয় দল। যতদিনে অন্যান্য দল খেলে ফেলে ২-৩টি ম্যাচ। শুধু তাই নয়, ভারতীয়দের প্রথম ম্যাচ শেষে এ বিতর্কও এরই মধ্যে উঠেছে যে, দলটিকে সুবিধা দিতে আইসিসি দলটির জন্য নিশ্চিত করে পছন্দের উইকেট।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এবার স্বাগতিক দেশ। ক্রিকেটের এই জনক দলটি এখন পর্যন্ত শিরোপার স্বাদ পায়নি। দ্বাদশ আসরে এসেও এই দলটি শিরোপা না পাক- শেষ চারে উঠতে না পারলে মাঠে দেখা মিলবে না স্বদেশীয় দর্শকের! ফলে, ইংল্যান্ডকে শেষ চারে রাখতে আইসিসি যেন বদ্ধপরিকর। তাই হয়তো উইকেটগুলোর মধ্যে এত ফারাক! ইংল্যান্ড খেলছে এমন উইকেটে শাসন করছেন ব্যাটসম্যানেরা, আবার যে পিচে খেলছে অন্যদল- সেখানে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিচ্ছেন বোলারেরা!

আর বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাতের ম্যাচের কথা তো না তুললেও চলে! অস্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আম্পায়ারিং নিয়ে তো সরব বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং মিডিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করার সময় চারটি ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানকে আউট দেয়া হয়। অথচ প্রত্যেকটি রিভিউ ব্যাটসম্যানের পক্ষে যায়। ৪.৪ ওভারে ক্রিস গেইলকে একটি দুরন্ত ইয়র্কার দেন মিচেল স্টার্ক। যেহেতু সেই বলে কোনও রান অথবা আবেদন হয়নি, তাই টিভি আম্পায়ারের সাহায্যও নেয়া হয়নি। কিন্তু পরে দেখা যায় পপিং ক্রিজ থেকে স্টার্কের পা অনেকটা বেড়িয়ে গিয়েছিল। সাধারণত যা চোখ এড়ানোর কথা নয়। কিন্তু উপস্থিত আম্পায়ার ক্রিস গাফনির চোখ এড়িয়ে যায় সেই বল।

সবচেয়ে বড় কথা, তার পরের বলেই আউট হন গেইল। যদি আগের বলটি নো দেয়া হত, তা হলে নিয়ম অনুযায়ী ‘ফ্রি-হিট’ হত পরের বল। সেক্ষেত্রে গেইল আউট হতেন না। টুইটারে এ বিষয়ে একাধিক মন্তব্য উড়ে আসে। একজন লেখেন, ‘বিশ্বকাপে এ ধরনের আম্পায়ারিং সহ্য করা যায় না। বলটি নো দেয়া হলে, পরের বলে গেইল আউট হয় না। তার উপর চারটি রিভিউ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে গিয়েছে।’

এ ব্যাপারে রাগ ঝেড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার কার্লোস ব্র্যাথওয়েটও। জরিমানার তোয়াক্কা না করে হাস্যকর আম্পায়ারিং নিয়ে সোজা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, আমি ‘জানি না আমার কথার জন্য আমাকে জরিমানা করা হবে কি-না। কিন্তু আমি বলতে চাই খুবই হতাশাজনক আম্পায়ারিং হয়েছে ম্যাচে। এমনকি আমরা যখন বল করছিলাম তখন অনেকগুলো ঠিক বলকেও ওয়াইড দেয়া হচ্ছিল।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box