চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা চালক গ্রেফতার

গাজীপুর থেকে মনির হোসেন

বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যায় অভিযুক্ত বাসচালক রোকন উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহমান ও রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের দৌবাউড়া কংশ নদী থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করেন। উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহমান তথ্য নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে গাজীপুরের বাঘেরবাজার পর্যন্ত সালাউদ্দিন (৩৫) ও তার স্ত্রী পারুল আক্তারের (৩২) কাছে ৬০০ টাকা ভাড়া দাবি করে আলম এশিয়া পরিবহনের সেই বাসের কন্ডাকটর ও হেলপাররা। সালাউদ্দিন নিজেকে চালক পরিচয় দিয়ে লাইসেন্স দেখিয়ে কম ভাড়া রাখার অনুরোধ করলেও ক্ষেপে যায় তারা।বেশ কয়েক দফা শারীরিকভাবে তাকে হেনস্থা করার পর সালাউদ্দিনকে লাত্থি দিয়ে বাস থেকে ফেলে হত্যার হুমকি দেয় কন্ডাকটর। তাকে রক্ষায় ছোট ভাই কাভার্ড ভ্যানচালক জালাল মিয়া (৩১) কয়েকজনকে নিয়ে এগিয়ে গেলেও ঠিকই সালাউদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় কন্ডাকটর ও হেলপার, আর বেপরোয়া চালক সবার সামনেই সালাউদ্দিনকে চাকায় পিষে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সালাউদ্দিনের।

রোববার (৯ জুন) সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সালাউদ্দিনকে পিষে মারার বিষয়ে এমনই বর্ণনা দেন জালাল মিয়া। তিনি ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে এজন্য বাসচালক, কন্ডাকটর ও হেলপারদের ফাঁসি দাবি করেন।

জালাল মিয়া স্থানীয় আনসার রোড এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান চালক। বর্বর কায়দায় এ ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাসের ওস্তাদ (চালক) ইচ্ছা কইরাই আমার ভাইয়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালায়া দেয়।’‘কতবার চিক্কার (চিৎকার) পাইরা কইছি ব্রেক কর ব্রেক কর ভাই গাড়ির তলে পরতাছে (গাড়ির নিচে পড়ছে)। ওস্তাদ (ড্রাইভার) শুনে নাই। সে ইচ্ছাকৃতভাবেই আমার বড় ভাইকে খুন করছে।’জালাল মিয়া ঘটনা বর্ণনায় জানান, ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকা থেকেই। বাসের কন্ডাকটর ও হেলপারদের হাতে বাসের ভেতরেই নির্যাতনের মুখে পড়েন সালাউদ্দিন।

অসহায়ত্ব বোধ করে সালাউদ্দিন তাকে ২-৩ বার ফোন করেন। ফোন পেয়ে দ্রুতই তিনি বাঘেরবাজারে ভাই ও ভাবীকে উদ্ধারে ছুটে যান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মাওনার আগে মাস্টারবাড়ি এলাকা থেইক্যা ভাই শেষবার আমারে ফোন দিয়া কয় ‘ওরা রানিংয়ে গেইট থেইক্যা লাত্থি দিয়া আমারে ফালাইয়া দিবো কইছে (চলন্ত অবস্থায় লাথি দিয়ে আমাকে ফেলে দেবে বলছে) তুই তাড়াতাড়ি আয়, আমগরে রক্ষা কর’। আমরা ৩ থেকে ৪ জন বাঘেরবাজারে বাসের সামনে গিয়া সিঙ্গেল (সিগন্যাল) দিছি। ওরা দুইজন যাত্রী রানিংয়ে নামাইছে। আমার ভাইরে ঠিকই ওরা লাত্থি দিয়া ফালাই দেয়। ভাবী তহনও নামতে পারে নাই।

ভাই গাড়ির সামনে গিয়া দাঁড়াইলে তার ওপর দিয়াই গাড়ি চালাই দিয়া মাইরা ফেলে।’আহাজারি করে জালাল মিয়া বলেন, ‘এক ড্রাইভার হইয়া ওরা আরেক ড্রাইভাররে মাইরা ফেললো। ওরা খুনি। ওগোর বিচার হইতেই হইবো। ওগোর বিচার না অইলে আমার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাইবো না।’ এ ঘটনায় সালাউদ্দিনের ছোট ভাই জালাল মিয়া বাসের ড্রাইভার, কন্ডাকটর ও হেল্পারসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক বাসচালক ও তার সহযোগীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box