চরবাসীর জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যয় হয় না

আলোকিত সকাল ডেস্ক

প্রতি বছরের বাজেটে চরবাসীর উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দ অর্থ ব্যয় না হওয়ায় তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না সরকার।

চরবাসীদের জন্য বাজেটে দেয়া অর্থ যাতে খরচ করা সম্ভব হয়, সেজন্য চর নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স’ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনামন্ত্রীর কার্যালয়ে তারা এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেয়ার বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি কো-অরডিনেটর আসিফ ইমরান খান।

তিনি জানান, চরবাসীদের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৫০ কোটি টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে চর ও হাওরের জন্য। কিন্তু চরবাসীদের জন্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায়, তা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি।

ইমরান খান আরও জানান, চর, দ্বীপচর, উপকূলীয় চর, অস্থায়ী চর– সব মিলিয়ে মোট ৩২ জেলায় প্রায় এক কোটি মানুষ চরে বাস করে।

জোটের পক্ষ থেকে বৈঠকে প্রস্তাব দেয়া হয়, চরবাসীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি চর ফাউন্ডেশন বা বোর্ড গঠন করতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতি বছর চরবাসীর উন্নয়নে যে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে, তা ব্যয় করা সম্ভব হবে।

এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান গড়াও সময় সাপেক্ষ। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হওয়ার আগ পর্যন্ত বাজেটে তাদের জন্য বরাদ্দ দেয়া অর্থ সরকার স্থাপিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ব্যয় করার প্রস্তাব দেয় ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স।

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে চরবাসীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ খরচের জন্য পিকেএসএফের মাধ্যমে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি স্পর্শকাতর ইকোনমিক সেনসেটিভ সেকশন। দরিদ্রের মধ্যে যারা দরিদ্র, তারা এখানে বাস করে। আমার ধারণা, জমির মালিকানা চরের মূল সমস্যা। সেখানে ভাঙে-গড়ে, স্থায়ী কোনো বসবাস করা যায় না। চর সম্পর্কে যে আইনটা আছে, সেটা চরবাসীদের জন্য খুব একটা ফ্রেন্ডলি (সুবিধার) নয়। জমির মূল মালিকের প্রতি আনুগত্য থেকে যাচ্ছে।

মান্নান বলেন, আমাদের সরকার অন্য সকল গোষ্ঠীর মতো এই গোষ্ঠির প্রতিও অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতি বছর চরের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেগুলো ব্যয় করা হয় না।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি টাকা ব্যয় করার জন্য বিশেষ কিছু বিধিবিধান আছে, সেগুলো পালনে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নেই। আজকে উনারা (ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স) বললেন, একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার। চরকে টার্গেট করে একটা সংস্থা গড়ে তোলা দরকার। এ জন্য সময় লাগবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার স্থাপিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পিকেএসএফ মোটামুটি বিস্তৃত আছে। তারা পিকেএসএফকে চরের জন্য বরাদ্দ দেয়া টাকা ব্যয়ের জন্য বলেছে। আমি মনে করি, এখানে সম্ভাবনা আছে। এ নিয়ে আমি কথা বলব।

এ সময় চরবাসীর পানি ও সেনিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতি বেশি জোর দেন মন্ত্রী।

‌আস/এসআইসু

Facebook Comments