চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ’র আলোচনা ও ইফতার মাহফিল

মোঃ মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পরষদ এর , We Love Chattogram শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান। বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম।

তিনি বক্তব্যে বলেন, এই চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদের পাশে আমি সবসময় আছি এবং থাকব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন। জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম। প্রধান পৃষ্ঠপোষক জনাব আলহাজ্ব মাহাবুবুল আলম তালুকদার, এ আর এম শামীম উদ্দিন, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফরিদ, এ্যাড জিয়া হাবিব আহসান, আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল করিম, রেখা আলম, জিয়াউদ্দিন খালেদ চৌধুরী, আলহাজ্ব ডা. সালে আহমেদ সোলায়মান, রিয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জানে আলম, সভাপতিত্ব করেন পর্ষদের সভাপতি এস এম সিরাজুদ্দৌলা ।

চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। তবে চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী কেবল নামে, এর কোনো বাস্তবায়ন কোথাও দেখা যায় না। শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার কথা বার বার ব্যক্ত করছে। কিন্তু চট্টগ্রামবাসী সত্যিকার অর্থের বাণিজ্যিক রাজধানী দেখতে পাচ্ছে না। বরং এটি স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে কিন্তু বর্তমানে এটি বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি। চট্টগ্রাম এশিয়ার সপ্তম এবং বিশ্বের দশম দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শহর। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ৯০ শতাংশ আনা-নেওয়া হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। তবুও কাগজেই সীমাবদ্ধ বাণিজ্যিক রাজধানী। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার অঙ্গীকারও ছিল। পরে বিএনপি সরকার ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি। পক্ষান্তরে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৪ সালে তিনটি জনসভায় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর চট্টগ্রামে উড়ালসড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘আমরা চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।

বর্তমান সরকারের সময়ে চট্টগ্রামে নানা উন্নয়ন হলেও বাণিজ্যিক রাজধানীর বিষয়টি উপেক্ষিতই ছিল। তবে এবার চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা, চতুর্থবারের মত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন তাই তিনি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নের গুরুত্ব দিবেন। এবার চট্টগ্রাম সত্যিকার অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। কিন্তু এখানে কথা হলো চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কে রাখবেন। একটি দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা কিংবা বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণায় সরকারকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করবে কে? প্রশ্নটি বাস্তব হলেও এর উত্তর কে দেবেন?

তবে বাস্তবতা হলো, গুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি ধারাবাহিকভাবে করার জন্য চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পরষদ মাঝে মাঝে দাবি তুলে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনীতিবিদদের আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই প্রয়োজন হবে যোগ্য রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতৃত্ব। কেবল মুখে বলে বলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণাটি বাস্তবায়ন অনেকটা অসম্ভবই হবে বলে মনে করেন বক্তারা।

বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নে ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে- এমনটি প্রত্যাশা সবার। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার বিষয়টিও আবার আলোচনায় আসবে। কারণ বর্তমান সরকারের সামনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, আইন-শৃঙ্খলাসহ এ জাতীয় কোনো সমস্যা-চ্যালেঞ্জ এখন পর্যন্ত নেই। তাছাড়া সংসদে আছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে এ সরকারের পক্ষেই সম্ভব হবে চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন করা। কারণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে দেশ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments