চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গায়েব কয়েক’শ কন্টেইনার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে বিদেশ থেকে আমদানি করা কন্টেইনারের নথি থাকলেও গায়েব কয়েক’শ কন্টেইনার। এ বিষয়ে সরকারের তদন্ত অধিদফতর থেকে জানতে চাইলেও তারা কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে। যদিও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও পণ্য বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। আর এতে উভয় প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করে এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত দুই বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশ থেকে ২৯৫ কন্টেইনার আসে। এ সব কন্টেইনারের নথি বিল অব লোডিং এর বিপরীতে আমদানিকারদের কোনও বিল অব এন্ট্রি নেই। যদিও ৩০ দিনের মধ্যে বিল অব এন্ট্রি জমা দিয়ে সরবরাহের কথা থাকলেও তারা তা দেননি। আর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর কন্টেইনারের বিষয়ে ঘুম ভেঙ্গেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। পরবর্তীতে কাস্টমসের দেয়া চিঠির বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কাছে ২৯৫টি কন্টেইনারের তথ্য রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে ৬৬টি, অকশনের মাধ্যমে বিডারদের ডেলিভারি ৬টি, প্রাইভেট আইসিটিতে ডেলিভারি ১৪টি, বিভিন্ন জাহাজে রিটেইন অন বোর্ড (কাগজপত্র ঠিক না থাকলে বা ডেঞ্জার নেভি পারমিশন না দেয়ায় কন্টেইনার জাহাজ থেকে নামিয়ে ফেরত) ৮১টি, বন্দরেই আসেনি ৩টি, অকশন করার লক্ষ্যে রক্ষিত আছে ১২৫টি কন্টেইনার।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার এইচ এম শরীফুল হাসানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের গঠিত কমিটি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ২১৪টি কন্টেইনারের হিসাব পেয়েছে। কাস্টমসের হিসেব পাওয়া কন্টেইনারের মধ্যে বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ডেলিভারি হয়েছে ৬৬টি কন্টেইনার, বিডারদের ডেলিভারি ৬টি, প্রাইভেট আইসিটিতে ডেলিভারি ১৪টি, বন্দরে আসেনি ৩টি, অকশনের অপেক্ষায় রয়েছে ১২৫টি কন্টেইনার। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী ৮১ কন্টেইনার ফেরতের কথা বললেও এত কম সময়ে কেনো এসব কন্টেইনার ফেরত আসলো বা হলো তাও জানতে চাওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। এরইপ্রেক্ষিতে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। যদিও উত্তর অদ্যাবধি পাওয়া যায়নি।

নিয়ম অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টমস বন্ডেড এরিয়া। একমাত্র কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের কন্টেইনার আটক, ছাড় করার কোনও এখতিয়ার নেই। আমদানি করা পণ্য বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে না নিলে ১৫ দিন পর পর এসব পণ্য নোটিস জারি করে নিলামে তোলার এখতিয়ার রয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এদিকে ভ্রুক্ষেপ ছিল না।

সূত্র আরও জানায়, বন্দর কাস্টমসের এই অবহেলার কারণে শত শত কন্টেইনার গায়েব হয়েছে। যার কারণে এই বন্দরের ভাবমূর্তি দেশের বাইরে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর কন্টেইনার গায়েবের সাথে জড়িত কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং এজেন্টসহ দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments