গৌরীপুরের ১১ গ্রামে নদী ভাঙন

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদের করাল গ্রাসে গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নের আটটি গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া নদের পানি ঢুকেছে ইউনিয়নের তিন গ্রামে। এতে তলিয়ে গেছে সব ঘরবাড়ি। গ্রাম ছেড়ে স্বজনদের বাড়ি ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিচ্ছে দুর্গতরা। তারা ভাঙনরোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের মাঝের টেক, চরভবখালি ও উজান কাশিয়ার চরের ২ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫ শতাধিক পরিবার।

এদিকে ভাটিপাড়া ও খোদাবক্সপুর গ্রামে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙতে ভাঙতে গ্রামের কাছাকাছি চলে এসেছে। গত দুই সপ্তাহে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে নদে। ঘর হারানো পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। নদে বিলীনের আশঙ্কায় গাছ কেটে ও ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রামবাসী। এরমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে হুমকিতে আছে ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজাত মিয়া বলেন, ১০ বছর আগেও নদ বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ছিল। এখন ভাঙতে ভাঙতে ঘরের দরজায় চলে এসেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করা হলে আগামী বছর ভাটিপাড়া গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান ১১ গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments