গৌরবের কমতি নেই যেখানে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

১৯৯৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল চলছে। মুখোমুখি দুই ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টাই হওয়া সেই ম্যাচটিকে তর্কযোগ্যভাবে ইতিহাসের সেরা একদিনের ক্রিকেট ম্যাচের তকমা দিয়ে থাকেন অনেকেই।

সুপার সিক্স পর্বে হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে অস্ট্রেলিয়া সেবার উঠে যায় বিশ্বকাপের ফাইনালে। দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে চোকার শব্দটি এঁটে যায় পাকাপাকিভাবে। সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকানদের অশ্রুর সাক্ষী হয়েছিলেন অগণিত দর্শক। আর প্রোটিয়াদের সেই বিষাদ আখ্যানকে বুকে ধরে এখনো দাঁড়িয়ে আছে একটি স্টেডিয়াম – এজবাস্টন।

ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে এজবাস্টনের গৌরবের কমতি নেই। এর মধ্যেই চার-চারটি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করে ফেলেছে স্টেডিয়ামটি। ‘৭৯ , ‘৮৩ , ‘৯৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ম্যাচ আয়োজন ছিল ঐতিহ্যবাহী এ স্টেডিয়ামটির জন্য আলাদা পাওয়া। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আবার আয়োজক সেই ইংল্যান্ড, আবারো অভ্যর্থনার ভাণ্ডার নিয়ে দাঁড়িয়ে এজবাস্টন!

বয়সের হিসেবে এজবাস্টন ১৩৩ বছরের পুরনো। ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামটি কাউন্টি ক্লাব ওয়্যারউইকশায়ারের ঘরের মাঠ। এ মাঠেই ডারহামের বিপক্ষে ওয়্যারউইকশায়ারের হয়ে ৫০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ব্রায়ান লারা। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এখনো পর্যন্ত সেটিই হয়ে আছে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস!

আসন্ন বিশ্বকাপেও এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত হবে একটি সেমিফাইনাল, রয়েছে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার হাই ভোল্টেজ ম্যাচও। এবার আসা যাক যে শহরে স্টেডিয়ামটি অবস্থিত সেই বার্মিংহ্যাম পরিচিতিতে। যুক্তরাজ্যের সব থেকে বড় এ শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। শহরটির অধিবাসীদের প্রায় ৪০ ভাগের বয়স ২৫ এর নিচে। এজন্য বার্মিংহামকে ইউরোপের সবচেয়ে ‘যুবক শহর’ বলা হয়ে থাকে।

এক সময় বার্মিংহ্যামকে বলা হতো ‘হাজার বাণিজ্যের শহর।’ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ধরনের পণ্যের সবচেয়ে বড় উৎপাদনস্থল ছিল শহরটি। ইউরোপের অন্যতম সবুজ এই শহরটিতে বনভূমির পরিমাণ প্রায় আট হাজার একর! আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ভেনিসের থেকেও বেশি খাল রয়েছে বার্মিংহ্যাম!

বিখ্যাত ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ব্ল্যাক স্যাবাথের জন্মস্থানও এই বার্মিংহ্যামে। বর্তমান ইংলিশ দলের ক্রিকেটার মঈন আলী ও ক্রিস ওকস উঠে এসেছেন এ শহর থেকে। বিখ্যাত বার্মিংহ্যাম আন্তর্জাতিক জ্যাজ মিউজিক ফেস্টিভালসহ প্রতি বছর প্রায় অর্ধ-শতাধিক উৎসবের আয়োজন হয় বার্মিংহ্যামে। যেকোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের দিক থেকে ইউরোপের শীর্ষে অবস্থান করছে শহরটি।

সবুজ স্নিগ্ধ বার্মিংহ্যাম হাতছানি দিয়ে ডাকছে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপকে, সুপ্রাচীন এজবাস্টন অপেক্ষা করে আছে আরো কিছু ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার। ৩০ মে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। তবে এজবাস্টনে বল গড়াবে অনেক পরে। ১৯ জুন নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপকে বরণ করে নেবে বার্মিংহ্যামবাসী। কে জানে, এবার হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সৌভাগ্য নিয়ে অপেক্ষা করছে শতবর্ষী এই স্টেডিয়াম!

আস/এসআইসু

Facebook Comments