গরিবের ঈদ নাই, ঈদ বড়লোকের

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গরিবের ঈদ নাই, ঈদ হলো বড়লোকের। আমরা ঠিক মতো ভাতই খাইতে পারি না, আমগো আবার ঈদ! কিন্তু ঈদ আইলে আমগোও একটু লাভ হয়। আমরা অনেক খাবার পাই, নতুন জামা পাই, মানষে খুশি হয়ে আমগো দেয়। এমনভাবেই মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা চাপা কষ্টের কথা বলছিলেন পথশিশু রাব্বি মিয়া। জন্মের পর থেকেই ছেলেটি নেমে পড়েছে জীবন যুদ্ধের ঠিকানাহীন পথে, যে পথে আলোর দেখা নেই জেনেও আলোর পথ খুঁজছেন রাব্বি। ঈদে রাব্বিদের মতো এমন অনেক নাম পরিচয়হীন ছিন্নমূল শিশুই অপেক্ষায় থাকে কখন কোনো বড়লোক এসে তাদের জামাকাপড় দিবে।

রমজান মাস একেবারে শেষের দিকে, দুদিন বাদেই আসছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে শহরের ছোট বড় সব ধরণের শপিং মলগুলোতে হচ্ছে হাজারো মানুষের ভিড়। শুধু কেনাকাটাতেই শেষ নয়, ঈদ নিয়ে যেন ভাবনার শেষ নেই মানুষদের। শুধু ঈদের কথা ভাবতে পারে না দেশের অসহায় দরিদ্র ছিন্নমূল এসব শিশুরা।

দু’মুঠো ভাত জুটবে কি না এটা নিয়েই যাদের সংশয় থেকে যায় তাদের আবার কিসের ঈদ আনন্দ! নির্দিষ্ট তেমন কোনো থাকার জায়গা নেই, যেখানে রাত সেখানেই কাত। এমনিভাবেই চলে এদের জীবন যুদ্ধ।

রবিবার কথা হয় পথশিশু রাব্বী সঙ্গে। পথশিশুটি জানায়, বছর দুয়েক আগে সাত ভাইবোনের অভাবের সংসারে ক্ষুধার জালা সহ্য না করতে পেরে শরীয়তপুরের নড়ীয়া থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় এসেছে সে। উদ্দ্যেশ্য ছিলো নিজে রোজগার করে পেটপুড়ে ভাত খাবে কিন্তু ঢাকায় এসে তার সকল আশায় গুড়েবালি হয়েছে। এখানে তাকে বেঁচে থাকতে করতে হচ্ছে কঠিন সংগ্রাম।

রাব্বি বলে, আমগো টেহা নাই, খাওনই পাইনা আবার ঈদের কাপড়। হারাদিন ষাইট সত্তর টেহা রোজগার কইরা আনি, এই দিয়া আমগো দিন যায়। মেলা টাকা কামায়া যেদিন বড় ওইতে পারমু হেদিন মানষের মত ঈদ আসলে দোকানি জায়া জামা কিনমু, সেমাই কিনমু। অহন একটু কষ্ট করি তাতে কি? ঈদে মানষের মত ঘুরতে মন চায় শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, শিশু মেলায় যাবার ইচ্ছা করে, তয় কেমননে যামু ? টেহা ছাড়া কি কেহ ডুকতে দিবো? বড়লোকের পোলাপাইন তো কত্তকিছুই কিনতে মার্কেটে যায়, আমারও যাইতে ইচ্ছে করে। কিন্তু না পেরে কান্না আসে।

পথচারী হেলালুদ্দীন খান বলেন, প্রকৃতির নিয়ম বড়ই নির্মম কারণ কারো পোশাক কেনার টাকা আছে কিন্তু দেয়ার মানুষ নেই। আবার কারো ঈদে নতুন জামা পরার প্রবল ইচ্ছে আছে কিন্তু কেনার সামথ্য নেই। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব খুশিতেই ঈদ করি কিন্তু এসব শিশুদের দিকে তাকালে মায়া হয়। কারণ এদের ঈদ বলে বিশেষ কোনো দিন নেই। এরা একটু খাবার আর টাকা পেলেই এদের কাছে যেকোনো দিনই ঈদের দিনের মতো মনে হয়।

পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মজার স্কুল’ ঢাকাসহ সারাদেশের অন্তত ৬ জেলায় ঈদকে কেন্দ্র করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে নতুন জামা, প্যান্ট,মেহেদী,ঘড়ি, চশমাসহ আরো অনেক কিছু।

মজার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফ জানান, আমরা প্রায় ৬ বছর যাবত এসব ছিন্নমূল শিশুদের ঈদে সাধ্যমতো পোশাক দেই। এসব শিশুরা যখন বক্স খুলে তাদের দেওয়া পোশাক বের করে একটা প্রাপ্তির হাসি দেয়, তখন আসলে মনটা ভরে যায়। মনে হয় জীবনে এর চেয়ে আর বড় কিছু পাইনি। আসলে আমরা এসব বাচ্চাদের উপহার দেয়ার মাধ্যমে উৎসাহীত করি। তাদের বুঝাতে চাই, তোমরা যদি পড়াশোনা করো তাহলে এমন আরো উপহার পাবে।

সমাজের উচু শ্রেণির মানুষেরা এগিয়ে আসলে হয়তো এসব ছিন্নমূল শিশুরা স্বপ্ন দেখবে বড় হওয়ার এবং স্বপ্ন দেখাবে একটা সুন্দর বিনির্মাণ বাংলাদেশ গড়ার।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box