গণমাধ্যমের কারণেই সুপ্রিম কোর্ট পিরিয়ডকালীন টয়লেট স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

আলোকিত সকাল ডেস্ক

“সুপ্রিম কোর্টে নেই পিরিয়ডকালীন টয়লেট ব্যবস্থা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পর কোর্ট প্রশাসন নারীবান্ধব টয়লেট স্থাপনের উদ্দোগ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট পিরিয়ডকালীন টয়লেট স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে। মানুষের মনন তৈরি, সমাজকে সঠিকখাতে প্রবাহিত করা ও ভাষাহীনদের ভাষা প্রকাশের ক্ষেত্রেও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

রবিবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের ফেলোশিপ সার্টিফিকেট ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান আয়োজন করে রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তবে এর মাঝেও এই বিষয়টিকে (মেয়েদের পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা) লক্ষ্য করে আপনারা যে সাংবাদিকতা করেছেন, যেটি আমরা সচারচর আলোচনা করি না। আমি মনে করি, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। আপনারা এই বিষয়ে সংবাদ করেছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট এই উদ্যোগ নিয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় আমাদের দেশে অটিস্টিক শিশুরা, যারা ঘরের কোণে পড়ে থাকতো। তাদের নিয়েও প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে কাজ শুরু করেন। ফলে ওইসব শিশুরা এখন বেরিয়ে এসেছে। এটা প্রমাণিত হয়েছে, তারা (অটিস্টিক শিশুরা) আমাদের সমাজের বা রাষ্ট্রের বোঝা নয়।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন সূচকের দিক থেকে এশিয়ার সব দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি সফল হয়েছে। দেশে বস্তুগত উন্নতি হয়েছে কিন্তু জাতির উন্নতিতে কাজ করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের পাশাপাশি উন্নত জাতি গঠনে আমাদের কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বও অপরিসীম।’

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্নব চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর প্রোগ্রামস অ্যান্ড অপারেশনস ইমরুল হাসান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী আ. খ. ম. মহিউল ইসলাম, উপ সচিব ডা. আবুল হোসেন, যুগ্ম সচিব ডা. আশরাফুন্নেছা ও নেদারল্যান্ডস অ্যাম্বাসির ডেপুটি হেড জেরয়েন স্টিগসসহ অনেকে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে ‘সুপ্রিম কোর্টে নেই পিরিয়ডকালীন টয়লেট ব্যবস্থা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ওইদিনই (২৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জরুরি সভা ডাকে এবং সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় পিরিয়ডকালীন টয়লেট স্থাপনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments