গজারিয়ায় মহাসড়কে পথচারী দুর্ঘটনা নিরসনে প্রয়োজন ফুট ওভারব্রীজ

গজারিয়া(মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন এক মরণ ফাঁদ। প্রতিনিয়তই এ মহাসড়কে চলছে সড়ক দুর্ঘটনা নামক মরণ খেলা। এ সড়ক দুর্ঘটনায় কখনো যাচ্ছে প্রাণ বা কখনো হচ্ছে মানুষ চিরপঙ্গু।

কিন্তু মহাসড়ক গুলতে কেন এই মৃত্যু খেলা? একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, এসব সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে কিছু বিশেষ বিশেষ স্থানে এবং নির্দিষ্ট কিছু কারনে। মহাসড়কের পাশে স্কুল-কলেজ, গার্মেন্টস ও মিল কারখানা গুলোর সামনে অনেক স্থানেই ওভার ব্রিজ ও স্পীড ব্রেকার না থাকায় দ্রুতগামী যানবাহন তাদের গতিরোধ করে না, যার ফলে ঝড়ে যায় তাজা প্রাণ। তাছাড়া যানবাহন গুলো বেপরোয়াভাবে চালানোও এসব সড়ক দুর্ঘটনার একটি মূল কারন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের দুটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড ও জামালদি বাস স্ট্যান্ড। অত্যন্ত ব্যস্ততম এই দুই স্থানে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লোকজন যাতায়াত করছে। মহাসড়কের রাস্তার দুই পাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, হাসপাতাল, শপিংমল, ব্যাংক, সমিতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যদ্রব্যের অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার ফলে স্থানীয়দের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হলেও প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে অত্যন্ত ব্যস্ত এই মহাসড়কটি। শুধু তাই নয় ঢাকায় যেতে কিংবা ঢাকা থেকে ফিরতে গাড়ি থেকে নেমেই অনেককেই এই রাস্তা পার হয়ে যেতে হয় গন্তব্যে। যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এখানকার পথচারীরা। অকালে ঝরে যাচ্ছে অনেক তাজা প্রান। কেউ বা আবার পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে এই মরন ফাদে পরে।

প্রতিনিয়ত এই দুই বাস স্ট্যান্ড হয়ে যাতায়াত করছে আশেপাশের প্রায় ২৫-৩০ টি গ্রামের লোক জন। পারাপার হচ্ছে স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এছারাও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমীক সহ অশংখ্য শিশু ও নারী-পুরুষ।

সম্প্রতি গত ২৫ মে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অংশের মেঘনার দ্বিতীয় সেতু উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ফলে গজারিয়ার জামালদী বাসষ্ট্যান্ড থেকে হাস পয়েন্ট পর্যন্ত মহাসড়কের এই অংশটুকু প্রায় আট লেনের চেয়েও প্রশস্ত। কিন্তু বৃহৎ এই প্রশস্ত অংশে নেই কোন ডিভাইডার, নেই কোন আইল্যান্ড, এমনকি নেই কোন পথচারীদের রাস্তা পারাপারের নুন্যতম নিরাপত্তা। ফলে সেতু উন্মুক্তের মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় পথচারী এক শিশু। এবং ২ দিন এর মাথায় অর্থাৎ ২৭ মে, সোমবার সকালে জামালদি বাসস্ট্যান্ডে একটি বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এক পা হাড়িয়ে এখনো আইসিইউ তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাহসী পুলিশ কনেষ্টবেল পারভেজ। যিনি সাহসীকতার সাথে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশে নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে যাওয়া একটি বাস থেকে ২০ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করেছিলেন।
এমতাবস্থায় মহাসড়কের অংশে রাস্তা পারাপার সত্যিকার অর্থেই যেন এক আতংকিত জনপদ। স্বাভাবিক ভাবেই সেতু উন্মুক্তের পর সড়ক দুর্ঘটনার আশংকা বেড়ে গেছে। যদি বলা হয় মেঘনার দ্বিতীয় সেতু উন্মুক্ত করা যতটা গুরত্বপূর্ণ, তেমনি অধিক গুরুত্বপূর্ণ জামালদী ও ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডে ফুট ওভারব্রিজ স্থাপন করা। তা না হলে দিনদিন বেড়েই চলবে পথচারী সড়ক দুর্ঘটনা।

পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা বিবেচনা করে উপরোক্ত সমস্যা সমাধান ও দূর্ঘটনা নিরসনে অতি দ্রুত ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড ও জামালদি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ফুট ওভারব্রীজ নির্মান করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবী জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box