ক্ষুব্ধ ডাকসু নেতারা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নির্বাচিত সদস্যদের টপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের সদস্য হয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস। ডাকসুর পক্ষে সিনেট অধিবেশনে যোগ দেবেন তারা।

ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার সিনেট সদস্য হওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না খোদ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে বিজয়ী সদস্যরাও। অন্যদিকে ‘প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে’ একচেটিয়া এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

ডাকসু থেকে ৫ জন সিনেট সদস্যের অন্যরা হলেন- ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানী ও ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদার। ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ২০ (ঠ) ধারায় বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) মনোনীত শিক্ষার্থীদের ৫ জন প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য হবেন।

নির্বাচিতদের বাদ দিয়ে অনির্বাচিত ২ ছাত্রলীগ নেতাকে সিনেট সদস্য করায় ক্ষুব্ধ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াই ছাত্রলীগ একচেটিয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ তার। খোলা কাগজকে নুরুল হক বলেন, ‘তারা আমাকে ফোন করেছিল অনির্বাচিত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সিনেট সদস্য করার বিষয়ে। আমি স্পষ্ট দ্বিমত পোষণ করেছি। এর বাইরে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। তারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে নির্বাচিতদের বঞ্চিত করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে।’

ভিপি নুরুল হককে ছাত্রলীগ সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ডাকসু জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। রাব্বানী বলেন, ‘অনানুষ্ঠানিক ভোটের সমীকরণে ডাকসু ভিপি মাত্র ১ ভোট পেয়েছিলেন। সে কারণে সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটে নিরঙ্কুশ ব্যবধানে জয়ী হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামতের ওপর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে স্বীয় পদটি ছেড়ে দিয়ে ছোট ভাই নুরকে জায়গা করে দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন।’

সিনেট সদস্য নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না হওয়ায় নাখোশ নির্বাচিতরা। ডাকসুর একাধিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিনেট সদস্য নির্বাচনের বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জয়ী এক সদস্য বলেন, ‘সিনেট সদস্য নির্বাচনে কখন কী হলো কিছুই জানলাম না। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমি লজ্জিত।’

অন্যদিকে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সিনেট প্রতিনিধি করাকে ভালোভাবে দেখছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। তারা বলছেন, নির্বাচিত যোগ্য প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে এ সিদ্ধান্ত খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী খোলা কাগজকে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি বাদ দিয়ে নির্বাচনে পরাজিত হওয়া এবং নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সিনেট সদস্য করা হলো। কী কারণে করা হলো তা তো স্পষ্ট। ছাত্রলীগ ডাকসু এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ না করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা তৎপরতা চালাচ্ছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box