কে হবেন ইইউ কমিশনের নতুন প্রধান? মুখোমুখি ম্যাখোঁ- মেরকেল

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ন্ত্রক ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কমিশনের শীর্ষ পদে কে বসবেন তা নিয়ে ব্যাপক মতভেদ দেখা দিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে।

সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে গ্রিন পার্টি এবং জাতীয়তাবাদী ঘরানার কাছে বড় ধাক্কা খায় মধ্যপন্থী প্রার্থীরা। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল ইইউ কমিশনের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মধ্য-ডানপন্থি ম্যানফ্রেড ওয়েবারকে চান। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাখোঁ এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য এমনকি ম্যানফ্রেড ওয়েবারের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেনি।

মঙ্গলবার ব্রাসেলসে সংস্থার বৈঠকের সময়ই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ব্রাসেলসের বৈঠকে ইউরোপের নেতারা ইইউ এর ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে কে হবেন সংস্থার ভবিষ্যত কর্ণধার তা নিয়ে আলোচনা করেন।

তবে ইইউ পার্লামেন্টের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী নেতৃত্বকে বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। এ ব্যাপারে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ব্রেক্সিটের কারণে এবারের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে বেশিরভাগ ভোটার ইইউপন্থি দলগুলোকে বেশি সমর্থন করেছেন।

ইইউ কমিশন ইইউ এর আইনগুলো প্রয়োগ করার পাশাপাশি ইইউ এর আইন প্রণয়ন করে। সংস্থার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ য়ুঙ্কার এর ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এ বছরই। য়ুঙ্কার মধ্যডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির (ইপিপি) প্রার্থী হিসেবে ২০১৪ কমিশনের প্রধান নির্বাচিত হন।

তবে কমিশনের প্রধান হিসেবে এবারের ইপিপি প্রার্থী জার্মানির ম্যানফ্রেড ওয়েবারের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন। কারণ সাম্প্রতিক নির্বাচনে ৭৫১ আসনের ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তার জোটের আসন ২১৭ থেকে কমে ১৮০টিতে দাঁড়িয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তার জোট ইপিপি’ই ইইউ পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় গ্রুপ।

ওয়েবারের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা জার্মান চ্যান্সেলর মের্কেল। তবে অন্যরাও তাদের প্রার্থীদের ব্যাপারে অনড়। বিশেষ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাঁখোকেই ম্যানফ্রেড ওয়েবারের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ম্যাখোঁ সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বৈঠকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে যে তিনজনের নাম উল্লেখ করেন সেখানে ওয়েবারের নামই ছিলো না।

ম্যানফ্রেড ওয়েবারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম মুখ্য ব্রেক্সিট মধ্যস্থতাকারী ফরাসি মিশেল বারনিয়ার, ডেনমার্কের মারগ্রেথ ভেস্তাগার এবং হল্যান্ডের মধ্যবামপন্থি ফ্রা টিমারম্যান্স।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্টর পাশাপাশি মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই বছরই পদ ছাড়বেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক প্রেসিডেন্ট মারিও ড্রাঘি এবং ইইউ এর পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান প্রতিনিধি ফেডেরিকা মোঘেরিনি।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ছাড়া অন্যান্য পদগুলোতে আগামী ১ নভেম্বর নিয়োগ দেয়া হবে। তবে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের নতুন প্রধান তার কার্যক্রম শুরু করবেন ১ ডিসেম্বর থেকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments