কেরানীগঞ্জ কারাগারে আদালত বসানোর উদ্দেশ্য অশুভ: বিএনপি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

অশুভ উদ্দেশ্যেই খালেদা জিয়ার বিচার করার জন্য কেরানীগঞ্জে কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এ অভিযোগ করেন।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে বলেছেন, বেগম জিয়া কোনদিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে এসে সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কিসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে তা জনগণের বুঝতে বাকি নেই। অশুভ উদ্দেশ্যেই কেরানীগঞ্জ কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনে এক মহাশৃঙ্খলের মধ্যে আবদ্ধ হয়েছে বলেই ন্যায় বিচার নিরুদ্দেশ হয়েছে। আর সেই কারণে অন্যায় এবং অবিচারের এক চরম বহিঃপ্রকাশের ফলশ্রুতি হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া।

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার যাতে চরম অবনতি না ঘটে সেজন্য তাকে অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি। তাই আমরা অবিলম্বে বেগম জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার পছন্দনীয় হাসপাতালে সুচিকিৎসার জোর দাবি জানাচ্ছি।

খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জমির উদ্দিন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এই সদস্য আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মারাত্মক জীবন-বিনাশী জীবানুদ্বারা ফুসফুসের সংক্রমন বা নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও ধারণা করা হয় যে, কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের কারণে তার শরীরে ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিয়েছে যা তার হাড়ের জন্যে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এমনিতেই অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। সর্বশেষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। কোনরকমে জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন। অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার কোন সাজাই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয় নাই। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরূপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী।

এ সময় খালেদা জিয়ার প্যারেলে মুক্তির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির কোন চিন্তা-ভাবনা নাই ‘।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের একটা অংশ ষড়যন্ত্র করছে। তাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ নেয়া হচ্ছে!

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments