কেমন থাকবে গবাদি পশুর বাজার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সামনে ঈদুল আজহা। এই ঈদে মূলত পশু কোরবানি মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। সবাই চাইবে যে যার সাধ্যমতো পশু কোরবানি দিতে। অনেক সময় এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে পশুর কৃত্রিম সংকট করে ফেলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। যে কোরবানির আগের দিন অনেকে বাধ্য হন চড়া দামে পশু কিনতে। আবার যারা দূর দূরান্ত থেকে ট্রাকে করে পশুর হাটে তাদের পশু নিয়ে আসেন তারাও ন্যায্য দাম পান না। মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হন। যারা পশুর হাটের ইজারা নেন, তাদের পশুর হাসিল অনেক সময় বেশি নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে যারা পশু কোরবানি দেবেন বলে নিয়ত করেছেন তাদের জন্য সংবাদ হচ্ছে, এবার কোরবানি করা পশুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ১০ লাখ। আর কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এর চেয়ে ৮ লাখ বেশি। অর্থাৎ ১ কোটি ১৮ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে। বাড়তি মজুদের কারণে এবার সরকার ঈদে সীমান্ত পথে বৈধ আর অবৈধ পথে সব ধরনের কোরবানিযোগ্য পশু আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, দেশে এবার গবাদি পশু উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমেছে। আর এবার খামারিরা যেন তাদের পশুর ন্যায্যমূল্য পায় সে কারণে সব ধরনের পশু আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির সময় পশুর চাহিদা বেড়ে যায়। সেদিকে লক্ষ রেখে চাহিদা আর উৎপাদনের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত আর অনিবন্ধিত গবাদি পশুর মোট খামারির সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার। আসন্ন কোরবানি ঈদে কোরবানির জন্য গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪৬ লাখ। আর ছাগল ও ভেড়া ৭২ লাখ।
জানা গেছে, বাড়তি মজুদের কারণে এবার পশু আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি খামারিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরবানি হাটে যেন স্বাস্থ্যসম্মত পশু আসে সে ব্যাপারেও নজরদারি রাখা হবে। ইতোমধ্যে খামারিদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবারের কোরবানি হাটে আরও যে বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে তা হলোÑ ভোক্তাদের কাছে মানসম্মত গবাদি পশু পৌঁছানো। যে কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাটে এবার ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। স্বাস্থ্যহানিকর এমন সব গবাদি পশু যেন হাটে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে।

জানা গেছে, গত বছর কোরবানির ঈদে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখের কাছাকাছি। সে তুলনায় এবার কোরবানির পশুর উদ্বৃত্ত দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ। ২০১৪ সালে ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গো রক্ষার নীতির কারণে দেশটি থেকে গরু আমদানির ভাটা পড়ে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমদানি নির্ভরতা অনেকখানি কেটে গেছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments