কুয়াকাটা খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকটে কাঙ্খিতশিক্ষা থেকে বঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা

মোঃ পারভেজ কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সুর্যোদয় সূর্যাস্তের লীলাভূমি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার ৭৮ নং খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিগ্নিত হচ্ছে। তিন’শ ২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৪ জন । শিক্ষানীতি অনুযায়ী ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকার কথা ৭জন। অধ্যায়নরত ৪ শিক্ষকের মধ্যে ক্লাস নিচ্ছেন ৩ শিক্ষক। অফিসিয়াল কাজে প্রধান শিক্ষক বেশিভাগ সময়ই ব্যস্ত থাকেন কলাপাড়া শিক্ষা অফিসে। একজন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থী রয়েছে একশ’রও বেশী। প্রাথমিক স্তরের শিশুদের পাঠদানে যেখানে হিমসিম খেতে হয় শিক্ষকদের। সেখানে ওই একই শিক্ষকই ৬ষ্ট থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের আবার ক্লাস নিচ্ছেন।

শিক্ষক সংকটের কারনে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু কিশোররা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পরছে। প্রাইভেট শিক্ষক নির্ভর হয়ে পরেছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলের পাশাপাশি আবার প্রাইভেট স্কুলে ছুটেচলার কারনে মানসিক ও শাররীক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। দেশের অন্যতম সুনামখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার স্কুল হওয়া সত্বেও মেধাবিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা। দ্যুত সময়রের মধ্যে শিক্ষক সংকটের সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, আধুনিক শিক্ষা বিস্তার লাভে পরীক্ষামূলক ভাবে জনগুরুত্বপূর্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে ২০১২ সালে ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ২২জুন (সোমবার) ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে শিশু শ্রেনী, প্রথম শ্রেনী, দ্বিতীয় শ্রেনী, ষষ্ঠ শ্রেনী, সপ্তম শ্রেনী ও অষ্টম শ্রেনীর পাঠদান কার্যক্রম। তৃতীয় শ্রেনী, চতুর্থ শ্রেনী ও পঞ্চম শ্রেনীর পাঠদান শুরু হবে বেলা ১২টায়।

প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী আরও তিন শিক্ষক একযোগে শিশু শ্রেনী, ষষ্ঠ শ্রেনী, সপ্তম শ্রেনী ও অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছেন। আর দ্বিতীয় শ্রেনীতে পাঠদান দিচ্ছেন ওই স্কুলের দপ্তরী ছাবের হোসেন।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছালাম গাজী বলেন, শিকক্ষ সংকটের ব্যাপারে শিক্ষা ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন দপ্তরে বার বার যোগাযোগ করেও কোন ফল পাইনি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শুধু দিচ্ছি দিব বলে অদ্য পর্যন্ত আশ্বাস দিয়ে আসছে। অথচ এমনও স্কুল রয়েছে যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে দশজনের অধিক শিক্ষক রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবুর বাশার জানান, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অবগত রয়েছেন তিনি, তবে পহেলা আগস্ট সমন্বয় সভা হবে, সেই সভায় ওই স্কুলে আরও দুইজন শিক্ষক দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

আস/এসআইসু

Facebook Comments