কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নামলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমোরসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যার্তদের। বেশিরভাগ বানভাসি মানুষ ঘরে ফিরলেও বন্যার পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকের ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বন্যার্তরা। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচল করতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ব্রহ্মপুত্রের প্রবেশমুখে সীমান্তবর্তী দই খাওয়ার চর ও চেরাগের আলগা চরে গিয়ে দেখা যায়, এদিক দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রথমেই দ্রুতবেগে প্রবেশ করে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি। যেগুলো দণ্ডায়মান আছে সেগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। কারো গলের চালা আছে তো বেড়া নেই, আবার কারো বেড়াসহ ঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

চেরাগের আলগার চরের কছির উদ্দিন মুন্সীসহ (৯০) আরো অনেকে জানান, ভারত থেইক্যা এই পথ দিয়া বানের পানি ঢুইক্কা মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি ভাসাইয়া নিয়্যা গ্যাছে। ২৩০ পরিবার আছিলাম এই চরে। পানির ঠেলায় ৩০টি বাড়ি ভাইঙ্গা গেছে। তারা পার্শ্ববর্তী চরে আশ্রয় নিছে।

বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর ঘরে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব পরিবার উঁচু জায়গায় বা আবাসনে আশ্রয় নিয়ে পরিবার পরিজনসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভায় চলতি বন্যায় ২ লাখ ৪০ হাজার ৫২৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতি হয়েছে ১৮৫৩টি এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭২টি ঘরবাড়ি। তবে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪টি। প্রায় ২ লক্ষাধিক গবাদি পশু পানিবন্দি হয়ে খাদ্য সংকটে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা খাইরুল আনাম জানান, জেলার ৯ উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভার ৮৯৪টি গ্রাম চলতি বন্যায় আক্রান্ত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭২টি পরিবারের ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন মানুষ। এ সময় নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে এক হাজার ৮৫৩টি পরিবার।

বন্যাদুর্গতদের মাঝে এখন পর্যন্ত এক হাজার মেট্রিক টন জিআর চাল, ১০ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, ৮৫০ সেট তাঁবু এবং বন্যায় নিহত ২১ জনকে ২০ হাজার টাকা হিসাবে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫২৫ জন উপকারভোগীকে ৬ হাজার ৪২৭ দশমিক ৮৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের হাতে মজুত আছে ৭০০ মেট্রিক টন চাল, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ২ লাখ টাকা গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ, ১৫০ সেট তাঁবু, ৪০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ বাবদ ১২ লাখ টাকা। এছাড়াও বন্যার কারণে ভিজিএফ বরাদ্দ এক মাসের জায়গায় টানা তিন মাস ধরে পাবেন বন্যাকবলিতরা।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, বন্যার্তদের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরো ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে বানভাসিদের পুনর্বাসনের জন্য টিন, নগদ অর্থ এবং কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে পর্যায়ক্রমে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments