কী নির্মম কী ভয়ঙ্কর

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে নিরীহ যুবক বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে বিশ্বজিৎকে কোপানোর এ ভিডিও দেখে সেদিন আঁতকে উঠেছিল সারাদেশ। এবার বরগুনাতেও যেন ফিরে এলো একই বিভীষিকা। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স কিন্ডারগার্টেনের সামনের রাস্তায় শত শত মানুষের সামনে একইভাবে কুপিয়ে রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে রক্তাক্ত করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়েই শরীফকে কুপিয়ে আহত করে নির্বিঘেœ চলে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত

শরীফকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল হয়ে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানেই বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে শরীফকে কোপানোর ভয়ঙ্কর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অসংখ্য মানুষ। ভিডিওতে দেখা যায়, সকাল ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স কিন্ডারগার্টেনের সামনের রাস্তা দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার সময় শরীফের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন দিক থেকে শরীফকে কুপিয়ে জখম করতে থাকলে রুখে দাঁড়ান মিন্নি। রক্তাক্ত স্বামীকে বাঁচাতে তিনি এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে প্রথমে হাতাহাতি ও পরে তার কোমরও জাপটে ধরেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে আবারও কোপাতে থাকে শরীফকে। এভাবেই শত শত মানুষের সামনে প্রকাশ্যেই সন্ত্রাসীরা শরীফকে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়।

নিহতের ঘনিষ্ঠরা জানান, রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে নয়ন বন্ড ও ফরাজী নামে দুজন জড়িত বলে জানিয়েছেন শরীফের বন্ধুরা। ঘটনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। ফলে খুনিদের চিহ্নিত করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। তারা ছিনতাই ও মাদককারবারসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

বরগুনা থানার ওসি আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, দুই মাস আগে আয়েশা মিন্নি নামে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে শরীফের বিয়ে হয়। কিন্তু নয়ন বন্ড নামে স্থানীয় আরেক যুবক আয়েশাকে ভালোবাসত। শরীফের বিয়ের পরও নয়ন ওই ছাত্রীকে নিজের স্ত্রী দাবি করে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই শরীফের ওপর হামলা চালায় নয়ন ও তার সঙ্গীরা। ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেখানে পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযান চলছে, আশা করি শিগগিরই খুনিরা গ্রেপ্তার হবে। লাশ শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে আছে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments