কাল ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ৬ষ্ঠ দফায় ভোট

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সাত দফার মধ্যে ৫ দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়ে গেছে, রবিবার (১২ মে) ষষ্ঠ দফার ভোট। বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গমহলের এলাকাগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে ছুটির দিনে। একসময়ের মাওবাদী প্রভাবিত এলাকা, যদিও এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর বহু মাওবাদী যেমন আত্মসমর্পণ করেছে, তেমনই জঙ্গলমহল কাপ সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুলিশে নিয়োগের পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও সুবিধা প্রদানের ফলে মাওবাদী উপদ্রব কমেছে। তবে, এই জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকছে নির্বাচন কমিশনসহ নিরাপত্তা বাহিনী।

ষষ্ঠ দফায় ভোটের ময়দানে রয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি, সিপিআইএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো বামদলগুলি। কংগ্রেসও রয়েছে এই দফার ভোটযুদ্ধে। ৮৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য ইভিএম বন্দি করবেন ১,৩৩,৬৯,৭৪৯ জন ভোটার। এই দফায় বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ার মতো জায়গাগুলিতে ভোট হবে। বাম আমলে এই জেলাগুলিতে মাওবাদী কার্যকলাপ ছিল ব্যাপক হারে। জঙ্গলমহল সহ এ পর্বে ভোট নেয়া হবে তমলুক, কাঁথি, ঘাটাল, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর লোকসভা আসনে।

নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা ‘এনডিটিভি’কে জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে ১০০ শতাংশ বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, তারজন্য ১৫,৪২৮টি ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন করা হচ্ছে ৭৭০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

আট আসনের মধ্যে জঙ্গলমহলের চারটি জেলা, এবং পূর্ব মেদিনীপুর।লড়াই হবে তৃণমূল, বিজেপি, বাম এবং কংগ্রসের মধ্যে। তবে বাঁকুড়া আসনে লড়াই হব ত্রিমুখী, এই আসনে প্রার্থী দেয় নি কংগ্রেস। এই পর্বে রাজ্যে প্রচারাভিযানে সামিল হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। এই পর্বেও প্রচারে বেশ কয়েকটি পদযাত্রা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তমলুক আসনে ঘাসফুল ধরে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা রেখেছেন বর্তমান সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর ওপরেই। এখানে বিজেপির ভরসা সিদ্ধার্থশঙ্কর নস্কর। শেখ ইব্রামি আলি কাঁথি কেন্দ্রে তমলুকে বাম প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। কংগ্রেসের ভরসা সিপিএম থেকে দলে যোগ দেওয়া লক্ষণ শেঠ।

কাঁথি লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী অধিকারী পরিবারের বর্ষীয়ান সদস্য তথা বর্তমান সাংসদ শিশির অধিকারী। তার বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী দীপক কুমার দাস, বামেদের বাজি সিপিএমের পরিতোষ পট্টনায়েক। অধিকারী গড়ে পদ্ম ফোটাতে বিজেপির ভরসা ড. দেবাশিস সামন্ত।

ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে অভিনেতা দেব তথা দীপক অধিকারীর ওপর আবারও ভরসা রেখেছেন তৃণমূলনেত্রী। তাকে আটকাতে বিজেপির বাজি প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষ। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে খন্দকর মোহাম্মদ সইফুল্লাহ, বামেদের বাজি সিপিআইয়ের তপন গঙ্গোপাধ্যায়।

শাল পিয়ালে ঘেরা জঙ্গলের জেলা ঝাড়গ্রামে ঘাসফুল ফুটেছিল গতবারেও। সেবার উমা সরেনকে প্রার্থী করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারে জঙ্গলমহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেছেন বীরবাহা সোরেন(টুডু)কে। তার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী কুনার হেমব্রম। কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন জগেশ্বর হেমব্রম, বামেদের ভরসা সিপিআইএমের দেবলীনা হেমব্রম।

মেদিনীপুর লোকসভা আসনে অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়ের পরিবর্তে তৃণমূল প্রার্থী কংগ্রেস থেকে দলে যোগ দেওয়া মানরঞ্জন ভুঁইয়া, তাকে আটকাতে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস, বামেদের বাজি সিপিআইয়ের বিপ্লব ভট্ট।

পুরুলিয়ার লালমাটিতে ঘাসফুল ফোটাতে গতবারের প্রার্থী তথা বর্তমান সাংসদ মৃগাঙ্গ মাহাতোকেই প্রার্থী করেছে জোড়াফুল শিবির। এখানে দৌড়ে সামিল হয়েছেন বিজেপির জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো। বামেদের বাজি ফরওয়ার্ড ব্লকের বীর সিং মাহাতো, কংগ্রেস প্রার্থী নেপাল মাহাতো।

বাঁকুড়া লোকসভা আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াই হবে তৃণমূল, বিজেপি ও বামেদের মধ্যে।এই আসনে এবার প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস। গতবারের সাংসদ অভিনেত্রী মুনমুন সেনকে এবার আসানসোলে প্রার্থী করায় বাঁকুড়ার রুক্ষ মাটিতে ঘাসফুল ফোটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাজি প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা বর্ষীয়ান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, তার বিরুদ্ধে বিজপি প্রার্থী ড. সুভাষ সরকার। প্রবীণ সিপিআইএম নেতা অমিয় পাত্রকে প্রার্থী করেছে বামদল।

বিষ্ণুপুর লোকসভা আসনে লড়াই হবে তৃণমূলের শ্যামল সাঁতরা ও বিজেপির সৌমিত্র খানের মধ্যে। সিপিআইএম প্রার্থী করেছে সুনীল খানকে। নারায়ণচন্দ্র খান কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন বিষ্ণুপুরে।

নির্বাচনি পর্যবেক্ষক এবং ব্যয় সম্পর্কিত পর্যবেক্ষক ছাড়াও এবার একজন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং একজন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার সমস্ত বুথে থাকবে ভিভিপ্যাট মেশিন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments