কারাগারে মিন্নির সঙ্গে দেখা হয় ১৩ আসামির!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিমান্ড শেষে বরগুনা জেলা কারাগারে রয়েছেন। রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত ১৯ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দেন মিন্নি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগারে মিন্নি জায়গা হয়েছে নারী ওয়ার্ডে। সেখানে মিন্নি ছাড়াও রয়েছেন ১৪ নারী বন্দি। রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্য ১৩ আসামিও রয়েছেন একই কারাগারের বিভিন্ন সেলে। সেল ভিন্ন হলেও দিনের বেলায় তাদের দেখা হয়। কারাগারটি পরিসরে ছোট হওয়ায় আসামিদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। মিন্নি এটা নিয়ে অনেকটাই বিব্রত। যারা চোখের সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তারাই এখন সামনে ঘুর ঘুর করছে। বিষয়টি তাকে ভীষণভাবে কষ্ট দেয়।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দিন কাটছে বিষণ্ণতায়। তাকে হতাশাগ্রস্ত দেখা গেছে। তিনি অধিকাংশ সময় চুপচাপ থাকেন। কারাগারে বই পড়ার আগ্রহও দেখিয়েছেন তিনি। তার আইনজীবী সেটি কারা কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ আবেদন করলে জেলকোট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

গত বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও বরগুনা বারের সাধারণ সম্পাদক এবং মিন্নির আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। তারা উভয়ই দাবি করেন, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় পুলিশের নির্যাতনে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মিন্নি। তাই তার চিকিৎসা প্রয়োজন। এছাড়াও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিখিয়ে দেওয়া স্বীকারোক্তি আদালতে বলেছেন মিন্নি। তাই এ স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতে চান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে বরগুনা জেলা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিন্নি আদৌ অসুস্থ না। তার আইনজীবী এসেছিলেন। আমি মিন্নিকে তার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছি। আমার সামনেই মিন্নির আইনজীবী তার কাছে বারবার জানতে চেয়েছেন, তাকে মারধর করা হয়েছে কি না এবং সে অসুস্থ কি না? এর উত্তরে মিন্নি বলেছেন, আমি ঠিক আছি। আমার শরীরে ম্যাজ ম্যাজ করে একটু ব্যথা হয়েছে।’

আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সময় মিন্নি আমার সামনে ছিলেন জানিয়ে বরগুনা জেলা কারাগারের সুপার বলেন, ‘সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের আরও কয়েকজন ছিল। আমার সামনে মিন্নি তার আইনজীবীর সঙ্গে এই কথা বলেছেন। মিন্নি তেমন অসুস্থ না। প্রতিদিন সকাল-বিকাল নার্স মিন্নির স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছে। তাছাড়া আমিও আছি, তার খোঁজ রাখছি। সে অসুস্থ না।’

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments