কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ শুরু

আলোকিত সকাল ডেস্ক

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ শেষে এবার শুরু হলো কর্মস্থলে ফেরার পালা। কর্ম এবং পেটের তাগিদে ঈদের তৃতীয় দিনেই লঞ্চ ও বাসে বরিশাল ছাড়ছে হাজার হাজার মানুষ। যদিও তাদের কর্মে ফেরার যুদ্ধ শুরু হয় ঈদের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৬ জুন থেকেই। তবে তৃতীয় দিন ৭ জুন (শুক্রবার) নদী বন্দর ও বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় পূর্বদিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।

বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী লঞ্চ মালিক সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে শিকড়ের টানে রাজধানী ছেড়ে বরিশালে আসেন ১২ লক্ষাধিক মানুষ।

ঈদ আনন্দ উপভোগ করে তারা আবার কর্মের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। তবে পূর্বের ঈদগুলোতে একটু আগেভাগেই যাত্রীদের ভিড় ছিলো লক্ষণীয়। এবার ছুটি একটু বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত সে রকম কিছু দেখা যায়নি।

বরিশাল নদী বন্দরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা গাজীপুরের গার্মেন্টস সুপারভাইজর আলমগীর হোসেন জানান, রোববার (৯ জুন) ছুটি শেষ। তাই একদিন আগেই বরিশাল থেকে চলে যেতে হচ্ছে। গোছ-গাছের কিছু বিষয় রয়েছে। তাছাড়া শনিবার (৮ জুন) ভিড়ের মধ্যে কষ্ট না করে একদিন আগেই ঢাকায় ফেরার কথা জানান ওই যাত্রী।

অপরদিকে বাকেরগঞ্জ বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র জসিম উদ্দিন শান্ত বলেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ করেছি। এখন লেখাপড়ায় মনযোগী হতে হবে। তাছাড়া ঢাকায় বন্ধুরা রয়েছে। তাদের সঙ্গেও একটা দিন ব্যয় করতে চাই। তাই একটু আগেভাগেই বরিশাল ত্যাগ করছি।

বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার থেকে তৃতীয় দিন শুক্রবার একটু ভিড় বেড়েছে। তবে তা তুলনামূলক বেশি নয়। শনিবার (৮ জুন) পর্যন্ত অনেকের ছুটি রয়েছে। তাছাড়া শুক্রবার (৭ জুন) বন্ধ ও আবহাওয়ার কারণে অনেকে কর্মে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছেন।

তিনি বলেন, কর্মেফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ-বন্দরে নৌ-পুলিশের পাশাপাশি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পাশাপাশি যাত্রীদের সহযোগিতা ও বন্দরের শৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাডেট ও স্কাউট সদস্যরাও রয়েছেন।

বরিশাল নৌ বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদের পর দিন থেকেই কর্মেফেরা মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৬ জুন বরিশাল থেকে ৬টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। তবে ওইদিন যাত্রীদের তেমন চাপ ছিলো না।

তিনি বলেন, শুক্রবার (৭ জুন) নদী বন্দরে যাত্রীদের চাপ পূর্বদিনের তুলনায় একটু বেশি। সে অনুযায়ী নদী বন্দর জেটিতে ১৩টি বেসরকারি লঞ্চ বার্দিং করা রয়েছে। এরমধ্যে ১০টি লঞ্চে যাত্রী তোলা হচ্ছে। ওই ১০টি ছেড়ে যাবে। তবে যাত্রীদের চাপ বেশি হলে বাকি তিনটি লঞ্চও যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। এরপূর্বে দিবা সার্ভিসের দুটি ক্যাটামেরন টাইপের দুটি নৌযান যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তাছাড়া নদী বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি লঞ্চই সদরঘাটে যাত্রী নামিয়ে পুনরায় বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসছে।

আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদ উপলক্ষে নৌবন্দরে বিআইডব্লিউটিএ ১৪ দিনের সেবাপক্ষ পালন করছে। ফলে বন্দরে কোনও ভোগান্তি নেই। তবে পর্যাপ্ত পন্টুন সঙ্কট রয়েছে। ফলে একটি লঞ্চের পেছনে অরেকটি লঞ্চ বার্দিং করতে হচ্ছে। যাত্রীরাও এক লঞ্চ থেকে ঝুঁকি নিয়ে অপর লঞ্চে উঠছে।

শুধু লঞ্চেই নয়, কর্মেফেরা যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও। সকাল থেকে বেশি কিছু পরিবহন ঈদ ফেরত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box