Dr Fahmida Khatun

করোনার ক্ষতিজনিত সুবিধা হারাতে হতে পারে অযৌক্তিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে

বাজেটে প্রবৃদ্ধির হিসাব অযৌক্তিকভাবে দেখালে বিশ্বে ভুল বার্তা যাবে। এতে বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ক্ষয়ক্ষতিজনিত সুবিধা হারাতে পারে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর শুক্রবার (১২ জুন) এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এ অভিমত দেয়া হয়। সিপিডির বাজেট পর্যালোচনা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এমন মন্তব্য করেন।

বাজেটে যদি অযৌক্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেটা যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সঙ্গে আমাদের রাজস্ব আদায় কীভাবে হবে, কর্মসংস্থান কী হবে, পরিকল্পনা কী- এসব বিষয় জড়িত। সুতরাং লক্ষ্যমাত্রা যদি ঠিকমতো নির্ধারণ করতে না পারি তাহলে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা যদি ঠিকমতো নির্ধারণ করতে না পারি তাহলে হয়তো আমরা বড় মূল্যস্ফীতির দিকে চলে যেতে পারি। অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে না। এর ফলে বড় ধরনের একটা সামাজিক অসন্তোষও দেখা যেতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে না পারলে কী বিপর্যয় হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক দিয়ে খারাপ অবস্থায় আছি। আক্রান্ত এখনও বাড়ছে। এ সময়ের বাজেটে স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে বাজেটে তেমন কিছু আলোচনাও করা হয়নি।

তিনি বলেন, বাজেটে সার্বিক বিষয় দেখে মনে হচ্ছে করোনা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। তারপর আমরা কীভাবে প্রবৃদ্ধির ধারায় দ্রুত ফিরবো। প্রবৃদ্ধির ধারায় দ্রুত আসতে হবে, সেখানে কর্মসংস্থান, কৃষি খাত সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু এখন আমরা বড় একটা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সেটাকে কীভাবে মোকাবিলা করতে পারি সেটাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল। শুধু স্বাস্থ্য বাজেট কিছুটা বাড়িয়েই এটা অর্জন সম্ভাব নয়।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতের জনবলসহ যে দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এসব বাদ দিয়ে এবারের বাজেট প্রবৃদ্ধি নির্ভর বাজেট হয়ে গেছে। এসব ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা যদি ঠিক না হয় তাহলে আমরা আরও বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিতে চলে যেতে পারি। যা অর্থনৈতিক ঝুঁকিকেও আরও বাড়াবে।

জীবন-জীবিকার বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন বেশি গুরুত্ব দিতে স্বাস্থ্য খাতে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Facebook Comments Box