কমিটি শূন্য লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি, নেতাদের দ্বন্ধে কর্মীরা হতাশ

:

নিজ্স্ব প্রতিবেদক:  লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপিতে কোন্দল, পাল্টাপাল্টি সভা-সমাবেশ ও অভ্যন্তরিন দ্ধন্ধের কারনে হতাশা দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। জেলা বিএনপির কমিটি নেই ৪ মাস সময় ধরে। ফলে দলীয় কোন কর্মকান্ড এখানে নেই বলেই চলে। দলের সিনিয়র নেতাদের কোন কর্মসূচি না থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি বাতিল করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আহবায়ক কমিটি করার কথা থাকলেও গত তিন মাসের অধিক সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। প্রার্থীরা কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষন তথা দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় এক নেতা নববার্তাকে জানান।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৮ আক্টোবর জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে সভাপতি ও সাহাবুদ্দীন সাবুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২বছর পর পর সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। দলের যুগ্ম মহাসচিব ২০১৫ সালের ৯ আগষ্ট চিঠির মাধ্যমে ঐ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের নির্দেশ দিলেও সেটাও হয়নি। কেন্দ্রের পক্ষ হতে কয়েক বার সম্মেলন করার তাগিদ দিলেও অজ্ঞাত কারনে তা করতে পারেনি জেলা বিএনপি। এমন প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বিএনপি লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে।
স্থানীয় বিএনপির তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির বিরোধ ও গ্রুপিং চলছে কমিটি গঠনের শুরু থেকে। দীর্ঘদিন থেকে জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী রয়েছেন একদিকে। অন্যদিকে রয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সমাজকল্যাণ সমাজ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির পূর্বের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. হাসিবুর রহমান হাসিব। উভয় গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর জন্য বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পৃথক পৃথক ভাবে পালন করে আসছে। আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও এ্যানি চৌধুরী গ্রুপ শহরের বাজারস্ত বড় পোলের দক্ষিণ পাড়ে জেলা বিএনপির অফিসে ও এ্যানি চৌধুরীর বাড়িতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে সভা সমাবেশ করে আসছে। একই সময় অপর গ্রুপ সাহাবুদ্দিন সাবুর নেতৃত্বে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার নিজবাড়ীর উঠান ও জেলা প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিরোধ এতটাই প্রকাশ্যে এক গ্রুপ আপর গ্রুপের ছায়াও দেখতে পারছেন না। যার ফলে তৃণমূল পর্যায়ে পর্যন্ত এ গ্রুপিং ছড়িয়ে পড়েছে।

খায়ের ভূঁইয়া ও এ্যানি চৌধুরী গ্রুপের মিটিং বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সৈয়দ শামছুল আলম, সাবেক জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া নেতৃত্বে থাকেন। অপর দিকে সাহাবুদ্দিন সাবুর মিটিং নেতৃতে থাকেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছায়েদুল হক চুট্টু ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডঃ হাসিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ্যাডঃ হারুনুর রশিদ ব্যাপারী।

তবে বর্তমানে যে কমিটি আসার কথা রয়েছে সে কমিটিতে খায়ের ভূঁইয়া গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রতিযোগিতায় আছেন সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ এবং সাবু গ্রুপে আ্যাডঃ হাসিবুর রহমান। জেলা কমিটির এ বিরোধ ও গ্রুপিং চলে আসছে জেলার ৫টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীদের মাঝে। কেউ সভাপতি গ্রুপ কেউ বা সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ।

এদিকে গেল সংসদ নির্বাচনে সাহাবুদ্দিন সাবু লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন অথবা লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক আসন) দলীয় মনোনয়ন দাবী করেন। তার দাবী দীর্ঘদিন থেকে মাঠে ময়দানে তিনি আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন। মনোয়নের দাবীদার তিনি। এ্যানী চৌধুরী ও খায়ের ভূঁইয়া কেন্দ্রীয় রাজনীতি করেন। তারা মাঠে থাকেন না। অপর দিকে এ কথা মানতে নারাজ এ্যানি চৌধুরী ও খায়ের ভূঁইয়া, তাদের মতে আন্দোলন সংগ্রাম আর দল গঠনে তাদের সার্বক্ষণিক অবদান রয়েছে।

কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তৃণমূল নেতা উপজেলা বিএপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ নুরুল আলম বুলবুল ৭১ কন্ঠ ডট কমকে জানান, আমরা চাই যত সম্ভব তাড়াতাড়ি জেলা কমিটি হওয়া দরকার এবং মাঠ পর্যায়ে যাদের সম্পর্ক আছে এমন নেতাদের দিয়ে কমিটি হওয়া জরুরী। অচলাবস্থা কাটানোর জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শীঘ্রই নতুন কমিটি দিবেন এমনটা প্রত্যাশা করেন তিনি।

সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী অ্যাডঃ হাসিবুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান অচিরেই কমিটি ঘোষনা করবেন। এতে তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে এবং দল আগের চেয়ে অনেক বেশী গতিশীল হবে।

অপর সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ জানান, মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হতাশ, কোন কর্মসূচি পালন করা যায়না। কোন কর্মকান্ড নাই, আমরা এই অবস্থার অবসান চাই।

জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিভাগীয় কর্মকান্ড ও ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার ব্যপারে ব্যস্ত রয়েছেন। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমান জেলা কমিটি ঘোষনা দিবেন।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু ৭১ কন্ঠ ডট কমকে জানান, জেলাবাসী দেখেছেন আমার অবদান কতটুকু। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম এবং আছি। আমরা শীগ্রয় লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির দ্বন্ধের নিরসন চাই। আর তা একটি সুন্দর কমিটি গঠন বা দলের নিদের্শনাই যথেষ্ট।

Facebook Comments