কমলনগর নদী বাঁধের দাবীতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল

শ্রীবাস কমলনগর সংবাদদাতা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর-রামগতি উপজেলার ৭ লক্ষাধিক মানুষকে বাঁচাতে নদী বাঁধের দাবীতে কমলনগর ও রামগতির বাজারে বাজারে ৩দিন ব্যাপী মিছিল ও পথসভা শেষে কমলনগরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পুর্বক দুই ঘন্টা ব্যাপী সড়ক অবরোধ করা হয়। গত ২০ বছর ধরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে কমলনগর ও রামগতি উপজেলা লক্ষ্মীপুরের মানচিত্র থেকে বিলিনের পথে।

মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ৭ লক্ষ মানুষের ভিটে-বাড়ী বাঁচাতে নদী বাঁধের দাবীতে কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ এর উদ্যোগে ও সর্বস্তরের হাজার হাজার জনগণের অংশগ্রহণে ০৭জুন হতে ০৯জুন পর্যন্ত কমলনগর ও রামগতির বাজারে বাজারে ৬টি বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা শেষে আজ ০৯ জুন ২০১৯ইং কমলনগরের হাজিরহাটে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে ২ ঘন্টা ব্যাপী আন্ঞ্চলিক সড়ক অবোরধ করে নদী ভাঙন কবলিত হাজার হাজার বিক্ষুব্দ জনতা।

কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ এর আহবায়ক বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এর আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান এর সভাপতিত্বে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জননেতা জনাব মোঃ আবদুল মতলব, হাজিরহাট বনিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ আইয়ুব আলী, সেক্রেটারী ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, জেলা সেচ্চাসেবক লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান দিদার, যুবলীগ নেতা মিরাজ হোসেন শান্ত, ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন লোটাস, সমাজসেবক মাহবুবুল ইসলাম দোলন, আমজাদ হোসেন আমু, ইসলামী আন্দোলন কেন্দ্রীয় নেতা শরীফুল ইসলাম, মঞ্চের অন্যতম সংগঠক শাহিনুর ইসলাম সুমন, আফজল হোসেন অনিক হাওলাদার, ইমরান হোসেন শাকিল সহ মঞ্চের অন্যান্য সংগঠক বৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন- ২৯/০৪/২০০৯ইং সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কমলনগর-রামগতি রক্ষায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণের জন্য আদেশ দেন। পরে ৩৭ কি: মি: বাঁধের প্রকল্প অনুমোদন করলেও কর্তৃপক্ষ ১০ বছরে মাত্র ৫ কি: মি: বাঁধ নির্মাণ করেছেন। প্রথম ধাপে ৫কিঃমিঃ কাজ ২০১৭সালে নির্মাণ শেষ হয়। রামগতি অংশের ৪কিঃমি কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দিয়ে নির্মাণ করলে টিকে যায়। কিন্তু কমলনগর অংশের ১কিঃমিঃ কাজ ঠিকাদার দিয়ে নির্মাণ করলে তা ১বছরে ৮বার ভেঙ্গে যায়। গত ২বছরেও ২য়ধাপে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় আসন্ন বর্ষায় ইতিমধ্যে ৩২কিঃমিঃ জুড়ে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ২লক্ষ জনগণ ভিটি বাড়ী হারিয়ে মানববেতর জীবন যাপন। বাকী ৫ লক্ষ মানুষ তাদের ভিটে-বাড়ি হারানোর হুমকির মুখে, এলাকার ঈদের দিনেও তাদের ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ী ঘর সরাতে ব্যস্ত ছিল বলে ঈদের আনন্দও মলিন হয়ে গিয়েছে।

সরকার ইতিমধ্যে কমলনগরের ১কিলোমিটার বাঁধ রক্ষার্থে তৎসংলগ্ন পৌনে ১কিলোমিটার জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং ও আলেকজান্ডার এলাকায় পৌনে এক কিলোমিটার ব্লক বসানোর বাজেট দিলেও তা কোন কাজেই আসবে না। কেন না কমলনগরের মূল বাঁধটি ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গিয়েছে। তাই তারা দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবী জানান। ৩২ কিলোমিটার ভাঙ্গন এলাকার জন্য দেড় কিলোমিটারে বরাদ্দ ভাঙ্গন ঠেকাতে কোন কাজেই আসবে না। বক্তারা আরো দাবী করেন- একত্রে ৩২কিলোমিটার জুড়ে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করলে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড থেকে এ দুটো উপজেলা নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে। তারা আরো দাবী করেন যদি বর্ষার আগে বাঁধের কাজ শুরু করা না যায়, তবে দ্রুত বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং করে বর্ষার ভাঙ্গনের তীব্রতা ও ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনার জোর দাবী জানান। দু’টি উপজেলার ৭ লক্ষাধিক মানুষকে বাঁচাতে কমলনগর ও রামগতির বাজারে বাজারে ৩দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ অনুষ্ঠিত হয় ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box