কমলনগরে হঠাৎ জোয়ারের পানিতে সেতু ধস ও সড়ক বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি :  লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নেই। ফলে অরক্ষিত বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রতিদিন জোয়ারে প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম। গত তিন দিনের মেঘনা নদীর দফায়-দফায় অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়ক ও লুধূয়া-হাজিরহাট সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অপরদিকে সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন হয়েছে লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়ক। এসব সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে জোয়ারে মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়কের প্রায় ৪০ ফুট রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে বিকালে লুধূয়া হাজিরহাট সড়ক ও লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বলিরপুল-নাছিরগঞ্জ সড়ক জোয়ারে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও মাতাব্বরহাট সড়ক, কদিরপন্ডিতের হাট সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মেঘনার জোয়ার থেকে রক্ষায় কমলনগর উপজেলায় বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার এলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। গত দুই দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট উঁচু জোয়ারের পানির তোড়ে ওইসব সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়।

কমলগরের মতিরহাট জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসায়ীক কেন্দ্র। এখানে রয়েছে মাছঘাট ও মাছের বড় মোকাম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মতিরহাট থেকে মাছ কেনেন। প্রতিদিন তোরাবগঞ্জ-মতিরহাট সড়ক দিয়ে শত-শত যানবাহন চলাচল করে। জোয়ারে সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। অপর দিকে হাজিরহাট-লুধূয়া সড়ক, লরেন্স-নবীগঞ্জ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মতিরহাট বাজার কমিটির সদস্য ও স্থানীয় চর কালকিনি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মেহেদী হাসান লিটন জানান, কয়েক দফা অস্বাভাবিক জোয়ারে মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ব্যবসায়ী, জেলে ও আড়তদারদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

চর লরেন্স ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ হিরণ জানান, তীব্র জোয়ারে তার ইউনিয়নের লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া পুলসহ সেতু-কালভার্ট ধসে গেছে।

চরফলকন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজি হারুনুর রশিদ জানান, প্রচণ্ড জোয়ারে হাজিরহাট-লুধূয়া সড়ক বিছিন্ন হয়ে গেছে। হাজিরহাট-মাতাব্বারহাট সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

এ খবর পেয়ে কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওমর ফারুক সাগর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কমলগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পি জানান, সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box