কঠোর হতে বাধ্য করবেন না, গ্রিন লাইনকে হাইকোর্ট

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভুক্তভোগী রাসেল সরকারকে আদালতের আদেশ সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করায় গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের প্রতি সতর্কতা দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেশে আন্তঃজেলা পরিবহন ব্যবসায়ের পিক টাইম হিসেবে বিবেচিত ঈদুল ফিতরের আগে এই সতর্কতা পেল গ্রিন লাইন।

গ্রিন লাইনের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, আমাদের নমনীয়তাকে দুর্বলতা ভাববেন না। আমরা কঠোর হতে চাই না। কিন্তু আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এই মন্তব্য করেন।

এর আগে শুনানির শুরুতে গ্রিন লাইনের আইনজীবী ওজিউল্লাহ বলেন, আদালতের সর্বশেষ আদেশের পর গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাদের আইনজীবী থেকে আমার নাম প্রত্যাহার করতে চাই।

বাস চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারের আইনজীবী শামসুল হক রেজা এ পর্যায়ে বলেন, আমাদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করছে না গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। রাসেলকে চিকিৎসা খরচ তিন লাখ টাকা দেওয়ার পর আর কোনো খরচও দিচ্ছে না। এইজন্য হাসপাতাল থেকে বাসায় এসে চিকিৎসা করতে হচ্ছে তাকে।

তাদের বক্তব্য শুনে আদালত বলেন, আমরা অনেক নমনীয় ভাবে কথা বলেছি, গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ কখনও বলে নাই যে আমাদের এই সমস্যা, আমরা এত টাকা দিতে পারব না। আবার রাসেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টা মীমাংসা করারও চেষ্টা করেনি।

আদালত আরও বলেন, যারা ব্যবসা করে তাদের মানবিক মূল্যবোধ থাকা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের আচরণ আমাদের কাছে ভাল লাগেনি। তারপরেও তাদের অনুপস্থিতিতে আমরা আজ আদেশ দিতে চাই না। প্রয়োজনে রুল শুনানির পর যা করার দরকার তাই করব।

আদালত গ্রিন লাইনের আইনজীবী ওজিউল্লাকে বলেন, আপনি যেহেতু এখন পর্যন্ত তাদের আইনজীবী আছেন, আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। আমরা অবকাশকালীন ছুটির পর এই মামলা পরবর্তী আদেশের জন্য রাখছি। এরপর আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ জুন দিন নির্ধারণ করে এবং এই সময়ের মধ্যে বাকি ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল রাসেল সরকারকে আদালতের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১৫ মে আদালত রাসেল সরকারকে টাকা দিতে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষকে আজকের দিন পর্যন্ত সময় দেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ।

গত ৩১ মার্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রিন লাইন পরিবহনের করা আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেলের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পা হারানো রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার জেলার পলাশবাড়িতে। ঢাকার আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় তার বাসা। এ ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন। পরে আদালত রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments