ওই দ্যাখ মিঠুনের বাবা যাচ্ছে

মোঃ রাছেল রানা জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া শহরের লোকজন এত দিন আমাকে ব্যবসায়ী শওকত আলী হিসেবে চিনতেন। এখন বাইরে বের হলেই এর–ওর মুখে মুখে শুনি, ‘ওই দ্যাখ মোহাম্মদ মিঠুনের বাবা যাচ্ছে’। শুনতে ভালোই লাগে। গর্বে বুক ভরে ওঠে।

শিশুরা টেলিভিশনে কার্টুন বা নাচ-গান দেখতে ভালোবাসলেও মিঠুনের পছন্দ ছিল ক্রিকেট খেলা। শহরের থানাপাড়ার বাড়ির পাশে মাঠে বন্ধুদের নিয়ে অনুশীলন করত। তার আগ্রহ দেখে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের সহোদর রিপন মিঠুনকে তালিম দেন।

মাত্র আট বছর বয়সে খুদে ক্রিকেটার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পায় মিঠুন। ক্রিকেট খেলার প্রতি ছেলের আগ্রহ দূরদৃষ্টিতে দেখেছিলাম, এই ছেলে একদিন গ্যালারি মাতাবে। তাঁর মনে গেঁথে দিয়েছিলাম জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন।

আমি এবং ওর মা বরাবরই চাইতাম সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ হবে। মিঠুন পড়াশোনা ও ক্রিকেট খেলায় সমান পারদর্শী ছিল। তীব্র গরমে দুপুরবেলা বাড়িতে সবাই যখন ঘুমিয়ে, ব্যাট-বল নিয়ে চুপিচুপি বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যেত খেলার মাঠে। ক্রিকেট খেলার প্রতি তার অনুরাগের কারণে আমি নিজে, স্ত্রী জাহানারা, দুই মেয়ে মিলি আক্তার ও মিতা খাতুন এবং বড় ছেলে ইমতিয়াজ হোসেন মিলন উৎসাহ দিই।

এক বুক আশা নিয়ে ২০০২ সালে মিঠুনকে বিকেএসপিতে ভর্তি করি। সারা দেশ থেকে যাওয়া ২ হাজার জনের মধ্যে সে মৌসুমে মিঠুনসহ ১৬ জন ভর্তির সুযোগ পায়। বিকেএসপিতে যাওয়ার সময় বাসে তুলতে গিয়ে আমার চোখের পানি দেখে মিঠুন হাসত। সে বলত, ‘একদিন ভালো ক্রিকেটার হয়ে তোমার চোখে আনন্দাশ্রু এনে দেব।’

বিকেএসপিতে ভর্তির পর থেকে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। অনূর্ধ্ব-১৪ দলসহ বয়সভিত্তিক খেলায় সাফল্য দেখিয়েছে। কখনো সেরা ব্যাটসম্যান, আবার কখনো সেরা খেলোয়াড় বা অধিনায়কের পুরস্কার এসেছে ঝুলিতে। সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য বয়ে আনে। এসএ গেমসে সোনাজয়ের সাফল্যে কুষ্টিয়ায় নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। হাতির পিঠে চড়িয়ে ঘোরানো হয়। সেদিন সত্যিই চোখ দুটি আনন্দাশ্রুতে ভরে ছিল।

এখন প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলা দেখি। যতক্ষণ খেলা চলে আমি ও ওর মা মিঠুনসহ বাংলাদেশ দলের সবার জন্য দোয়া করি। দেশবাসীর কাছেও দোয়া চাই, বাংলাদেশ দল যেন চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফেরে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box