এ যেন সড়ক নয় মৃত্যুফাঁদ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

খুলনার তেরখাদা থেকে কালিয়া সড়কের এখন বেহাল দশা। নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের ৭ কিলোমিটার সড়ক অধিকাংশই খানাখন্দে ভরা। বৃহৎ অংশই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা রাস্তার কারণে এসব সড়কে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। এ সড়কটিতে বড় বড় গর্তে আটকে পড়ে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে বিপদজনক এ সড়কে চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্কুল শিক্ষর্থী অনিক জানান, বাড়ি থেকে তেরখাদা স্কুলে যেতে ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটেই যেতে হয়, ভাঙা রাস্তায় এখন আর আগের মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। আর পেলেও ৩ থেকে ৪ চার গুণ ভাড়া গুণতে হয়।

জাহাঙ্গীর নামের বর্ণাল গ্রামের এক পথচারী জানান নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারসহ অনেক কাজের জন্য তেরখাদায় আসতে হয়। কিন্ত রাস্তা খারাপ থাকার কারণে একদিন গাড়িতে করে বাজারে গেলে কোমর ব্যথার জন্য তিন দিন আর উঠতে পারিনা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে মাথাভাঙা গ্রামের এক নারী জানান, তেরখাদা বা খুলনায় যাওয়ার এটাই একমাত্র রাস্তা। কিছুদিন আগে আমার ছেলের গর্ভবতী বউকে নিয়ে খুলনা যাওয়ার পথে রাস্তার দুরবস্থা কারণে গাড়িতেই আট মাসের সন্তান প্রসাব করে।

রাস্তার গাড়ি চালক শেখ এনামুল ক্ষোভ জানিয়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরে শুনি রাস্তার কাজ হবে। আজও কিছুই দেখলাম না। কিন্তু জীবনের তাগিদে এ সড়কে গাড়ি চালালে ও গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা। আর প্রতিনিয়ত ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা।

খুলনা বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন সোনা দৈনিক অধিকারকে জানান, সরকার বরাদ্দ দিলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে রাস্তার বেহাল দশার কর্ণপাত করে না তারা। অতি শীঘ্রই খুলনার তেরখাদা থেকে কালিয়া সড়কের রাস্তা মেরামতের দাবি জানান তিনি।

তবে কয়েক দফা যোগাযোগ করলেও খুলনার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাস অজুহাত দেখিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments