এ কোন বাংলাদেশ?

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিল টাইগাররা। কিন্তু সেই স্বপ্ন সত্যি হয়নি। সেমির আগেই দেশে ফিরতে হয় মাশরাফি-তামিমদের। কিন্তু বিশ্বকাপে টাইগারদের পারফমেন্স ছিল প্রশংসনীয়। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। দেশের কোটি ক্রিকেট প্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল বিশ্বকাপের মতোই ভালো খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে লড়াই তো দূরের কথা স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

৩১৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আউট হন টাইগার অধিনায়ক। ইনিংসের প্রথম ওভারে মালিঙ্গার বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে খুব নার্ভাসই মনে হয়েছে। উইকেটে রীতিমতো কাঁপা কাঁপি করছিলেন তামিম। ওভারের পঞ্চম বলটি কোনো রকমে ঠেকাতে চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু মালিঙ্গার করা বলটি তামিমের ব্যাটের ফাঁক গলে লেগ স্ট্যাম্পে গিয়ে আঘাত হানে। শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন তামিম।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে আউট হন, মিথুন, সৌম্য, মাহমুদুল্লাহ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান। ব্যাটিং করছেন মুশফিক ও সাব্বির।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক শ্রীলংকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ৩২ মাস পর দলে ফিরেই শুভ সূচনা এনে দেন শফিউল ইসলাম। তার বলে ফাস্ট স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লংকান ওপেনার অভিস্কা ফার্নান্দো। দলীয় ১০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে শ্রীলংকার।

ভালো শুরুর রেশ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে দিমুথ করুনারত্নের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন কুশাল পেরেরা। তাদের জুটিতে প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলংকা করে ১ উইকেটে ৭৭ রান। টাইগার বোলারদের তুলোধুনো করে এই জুটিতে তারা যোগ করেন ৯৭ রান।

ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার অফ স্পিনে ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লংকান অধিনায়ক করুনারত্নে। তার আগে ৩৭ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।তার বিদায়ে ১৫ ওভারে ১০৭ রানে দুই উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে ফের ১০০ রানের জুটি গড়েন পেরেরা। এই জুটিতেই ৮২ বলে শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানকে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন সৌম্য সরকার। তার আগে ৯৯ বলে ১৭টি চার ও এক ছক্কায় ১১১ রান করেন পেরেরা।

অনবদ্য ব্যাটিং করে ফিফটির পথেই ছিলেন কুশল মেন্ডিস। তাকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন রুবেল হোসেন। ৪৯ বলে ৪৩ রান করে ফেরেন মেন্ডিস। তার বিদায়ে ৩৪ ওভারে ২১২ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

এরপর ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও রাহিরু থিরিমান্সেন।৩০ বলে ২৫ রান করা থিরিমান্নেকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তবে ব্যাটিং চালিয়ে যান ম্যাথিউস। ইনিংস শেষ হওয়ার ৯ বল আগে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মোস্তাফিজের বলে সাব্বিরের ক্যাচে পরিণত হন লংকান সাবেক অধিনায়ক ম্যাথিউস। তার আগে ৫২ বলে তিন চারে ৪৮ রান করেন তিনি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments