এ কেমন আজব দম্পতি, বারবার বিয়ে করেই চলেছেন!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পৃথিবীর নতুন নতুন সব কিছুর উদ্ভাবন যেমন মানুষের দ্বারা হয়েছে, ঠিক তেমনি অদ্ভুত সব কাণ্ডও ঘটেছে তাদের মাধ্যমেই। মানুষ মূলত স্রষ্টার আজব এক সৃষ্টি। বাকি সব প্রাণীরা স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হলেও, দিন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে মানুষের মানসিকতার।

এদের মধ্যে কেউ অ্যাডভেঞ্চার করতে দিনের পর দিন পানিতে, কেউ আবার পাহার পর্বতে কেউ আবার দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ান। একমাত্র এই মানুষই নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিবর্তন করে চলেছে। দৈনন্দিন একেকটি পছন্দের কাজ করতে গিয়ে কখনো একাধিক নারীকে বিয়ে করছে, কখনো একাধিক সন্তান জন্ম দিচ্ছে আবার কখনো নিজের বউকে গর্ভবতী করতে গিয়ে বন্ধুকে ভাড়া করছে।

এছাড়া এই মানুষই মাঝেমধ্যে এমন উদ্ভট সব কাজ করে বসেন যা অন্যদের অবাক করে দেয় রীতিমত। এই যেমন ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতির কথাই বলি, তারা নাকি এমন একটি কাজ করে চলেছেন, যা কখনো আপনি আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এমনকি তারা সামনেও নাকি এই ঘটনা আরো ঘটাবেন তারো পরিকল্পনা করে রেখেছেন।

অবাক হচ্ছেন? কী বলতে চাচ্ছি? হওয়ারই কথা। তাহলে শুনুন সেই ঘটনা। পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষই বিয়ে করে। যে যার ধর্মানুসারেই বিয়ে করে। কিন্তু মানুষ যেখানে প্রথাগত নিয়মে সামাজিক রীতিনীতি মেনে একবার বিয়ে করে, তখনই সে ক্লান্ত হয়ে যায়। সেখানে এই দম্পতি কিনা বিয়ে করেছেন প্রায় ১২ বার। তাও আবার ১২টি দেশ ঘুরে! ভাবা যায়, এরা কেমন দম্পতি (মানুষ)?

পৃথিবীতে হাতেগোনা কিছু মানুষের পক্ষে সম্ভব এই কাজ করার। তারপরেও তারা এমন কাজ করে না। কারণ সময়, সুযোগ সব ওইভাবে হয়ে উঠে না। সে জায়গায় এরা তেমন অর্থ সম্পদের মালিকও না। তারপরেও একের পর এক বিয়ে করেই চলেছেন। তবে নতুন কোনো মানুষের সঙ্গে বা নতুন কোন পরিবারের সঙ্গে নয় বরং একই মানুষ একে অপরকে বার বার বিয়ে করছেন! ভাবছেন, পাগলের প্রলাপ গাচ্ছি? না তেমন কিছুই করছি না।

মূল ঘটনায় আসি, বলছিলাম ক্যালিফোর্নিয়ার কেঞ্জি ও টেলর তানিগুচির কথা। তারা নিজ দেশে প্রথমবার বিয়ে করেন। ওই সময় তারা নাকি বিয়ের স্বাদ পুরোপুরি নিতে পারেননি। পরে তারা বিয়ে করেন জাপান, ইতালিতে। তারপর একে একে থাইল্যান্ড, ইসরাইল, কিউবা, স্পেন, ইন্দোনেশিয়াতেও বিয়ে করেন এই দম্পতি। কিন্তু কেন এমনটা করছেন তারা?

কেঞ্জি জানান, মূলত তারা নাকি বিয়ের স্মৃতিকে আরো খানিকটা বেশি রোমাঞ্চকর করতে চান। তাই নাকি তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম বার বিয়ের সময় টেলর পরেছিলেন নিজের ঠাকুমার বিয়ের পোশাক। তারপর অন্য একটি গাউনও পরেন তিনি। আর তখনই নাকি তার মনে হয় ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এর কথা। ওই সময় নাকি নিজের বিয়ের পোশাকের জন্য মাত্র ১০০ ডলারের বেশি খরচই করেননি তিনি। তাছাড়া পরবর্তীতে বিশ্ব ঘুরে বিয়েতে খরচ করতে চেয়েছিলেন নাকি এই দম্পতি।

এদিকে, টেলর পেশায় একজন বৈমানিক। তাই খুব সহজেই বিমানের টিকিট বুক করতে পারেন তিনি। সে সুযোগটি তাই সহজেই মিটিয়েছেন তিনি। এর আগে নাকি টেলরকে জাপানে প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কেঞ্জি। আর তার এমন প্রস্তাব শুনে সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো তাকে বিয়ে করেন টেলর। এভাবে ১২টি দেশে ১২ বার বিয়ের পর, আগামী ভালোবাসা দিবসে আবারো ১৩তম বার বিয়ের কথা ভাবছেন নাকি এই দম্পতি। ভেবে দেখুন, কতটা অদ্ভুত কাণ্ডই না মানুষ ঘটান!

তবে বিয়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে কেঞ্জি ও টেলর বলেন, আসলে ‘ইউ মে কিস দ্য ব্রাইড’ কথাটা শোনার মুহূর্তটা নাকি তাদের কাছে সবচেয়ে ভালো লাগার মুহূর্ত। তাই নাকি তারা এমন দিন প্রতি বছরই আসুক, এটাই চান। আর সে অনুযায়ী সময় সুযোগ বুঝে একেকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন আর দেশ ঘুরেন এই দম্পতি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments