এবার হজে করতে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ হাজার লোক

মানবকণ্ঠ
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরব বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে হজের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। খুবই স্বল্প পরিসরে ও সীমিত সংখ্যক লোকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে হজ।

গতকাল মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি শর্তের ভিত্তিতে হজ পালনের সুযোগের কথা জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এবার যারা হজে অংশগ্রহণ করবে তাদের জন্য কড়াকড়ি শর্ত জুড়ে দিয়েছে হজকর্তৃপক্ষ।

১. শুধুমাত্র সৌদি আরবের অবস্থানরত লোকদের মধ্য থেকেই হজে অংশগ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ বর্হিঃবিশ্বের কোনো দেশ থেকে হাজিগণ অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
২. হজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককেই আলাদা আলাদা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিতে হবে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উন্নীত হতে হবে।
৩. হজের পর হজে অংশগ্রহণকারীদের বাড়ি বা কর্মস্থলে ফেরার আগে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইন করতে হবে।
৪. সৌদি আরবের নাগরিক ও সৌদিতে অবস্থানকারী বিদেশিরা হজে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
৫. ৬৫ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তির হজে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
৬. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনায় এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তারা নিয়ন্ত্রণ করবেন।
৭. হজের সময় শুধু হাজিদের জন্যই আলাদা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার যাবতীয় জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
৮. সৌদি হজ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অব্যাহত রেখেই হজ অংশগ্রহণ ও হজের রোকনগুলো পালন করতে হবে।
৯. এবারের হজে সর্বোচ্চ ১০ হাজারের বেশি লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলেও জানিয়েছেন হজ কর্তৃপক্ষ।
১০. আন্তর্জাতিকভাবে হজের জন্য কোনো ব্যতিক্রম কিছু হবে না। এটি শুধূ সৌদিতে অবস্থানকারী (দেশি-বিদেশি) হজ পালনকারীদেগর জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা।
১১. যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এ বছরের হজের মিডিয়া ব্যবস্থাপনাও অব্যাহত থাকবে।
১২. এবারের হজের কূটনৈতিক মিশনের লোকজনের জন্যও যথাযথ নিবন্ধন সাপেক্ষে হজের ব্যবস্থাপনা থাকবে।
১৩. আগে থেকে ঘোষিত সৌদি আরবের বাইরের বর্হিঃবিশ্বের কোনো দেশের এজেন্ট কিংবা হজ মিশনের কেউই এবারের হজে যাত্রী বা প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে না।
১৪. যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তাই এবারের হজে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রাধান্য পাবে।
১৫. সর্বোপরি সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত সাপেক্ষেই হজে অংশগ্রহণ করতে হবে।
১৬. প্রতিদিনই প্রত্যেক হজযাত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

উল্লেখিত শর্ত ও নিয়মগুলো প্রত্যেক হজ পালনকারীর জন্য আবশ্যক। যার ব্যতিক্রম হলে কেউই হজে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

এর আগে গত সোমবার সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, ১৪৪১ হিজরি মোতাবেক ২০২০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে বহির্বিশ্বের হজ পালনকারীরা হজে অংশ নিতে পারবেন না। সীমিতভাবে সৌদি আরবে বসবাসকারী দেশটির নাগরিক অথবা প্রবাসীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির হুমকির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ জুলাই থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

২০১৯ সালে হজ পালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। এর মধ্যে সৌদির নাগরিক ছিলেন ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, আর সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন হজ পালন করেছেন

Facebook Comments Box