এবার বিক্রি বেড়েছে হিজাব-বোরকার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতরে পোশাকের পাশাপাশি এর সঙ্গে রঙ ও ধরন মিলিয়ে ওড়না, হিজাব, বোরকাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিসপত্রেরও কেনাকাটার ধুম পড়ে। তাই রমজানের শেষভাগে এসে অন্যান্য কেনাকাটার সঙ্গে এসবের বেচাকেনাও বেড়েছে। রাজধানীর মার্কেটগুলোতে সনাতনী বোরকার চেয়ে আধুনিক বোরকার সংখ্যাই বেশি। তবে নিউমার্কেট এলাকার কিছু দোকানে সনাতনী বোরকাও রয়েছে।

সনাতনী বোরকাগুলো প্রধানত আকারে বড়, ঢিলা-ঢালা। এর সঙ্গে সাদামাটা ওড়না ব্যবহৃত হয়। সাধারণত একটু বয়স্ক মানুষের মধ্যে এই বোরকা পরার প্রবণতা বেশি। তবে অধিকাংশ দোকানেই আধুনিক বোরকার বিক্রি হচ্ছে বেশি। এসব বোরকার কাপড়, কালোর বাইরে অন্যান্য রংয়েরও হয়ে থাকে। কিছুটা কম প্রশস্ত ও বিভিন্ন রং-বেরংয়ের কাপড়ের তৈরি এই বোরকা অল্প ও মূলত মধ্যম বয়সী নারীদের কাছেই বেশি জনপ্রিয়। বোরকার কাপড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে পন্স বা গেঞ্জি ধরনার কাপড়। এ ছাড়া পাতলা ও লিলেন কাপড়েরও প্রাচুর্য রয়েছে। তবে তেলতেলে কাপড়ের বোরকাও পছন্দ করছেন ক্রেতারা। এদিকে বিক্রির দিক থেকে বোরকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে হিজাব।

ফলে বোরকা মার্কেটগুলো মূলত হিজাবের বিশাল মার্কেট হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি বোরকার দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে নানা রং-ঢঙের হিজাব। হেজাবের মধ্যে রয়েছে নানা প্রকারভেদ। কোনো হিজাব খুবই সাদামাটা, আবার কোনোটি খুবই ফেশনেবল। কিছু ওড়নাও আবার হিজাব হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। মূলত বিশেষ স্টাইলে কাটিংয়ের জন্য এই ওড়নাকে হিজাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একই কাপড়কে কখনো ওড়না আবার কখনো হিজাব হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এটির চাহিদাও অন্যগুলোর চেয়ে একটু বেশি। কিছু হিজাবের ওপর হাতে আঁকা নানা ধরনের নকশা রয়েছে। কিছুতে আবার ফুল, ফল, পুথি, জরি বা কাঁচ বসানো হয়েছে। কাপড়ের মান ও নকশাভেদে বোরকা, হিজাবের দামেও রয়েছে ভিন্নতা। বোরকার মধ্যে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার বোরকা রয়েছে। আবার হিজাবের মধ্যেও ১৫০ থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার হিজাব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানালেন মান হিসেবে দাম রয়েছে বোরকা ও হিজাবের। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বোরকাতে উৎসবের পোশাকের চেয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধই বেশি কাজ করে। এরপরও ঈদের সময় এর বিক্রি-বাট্টায় কদর বাড়ে।

সে হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে বেশ বিক্রি হচ্ছে ধর্মীয় এই পোশাকটি। প্রতিদিনই তাই এখন বোরকা, হেজাবের বাজারগুলোতে ভিড় করছেন নারীরা। রাজধানীর ইস্টার্ন পস্নাজা মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় হেজাব বোরকা বিক্রি হয়। এই মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় বোরকার দোকানগুলোতে ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। বিভিন্ন বয়সী নারীরা এসব কেনাকাটা করছেন। তবে মধ্যম বয়সী নারীরাই হেজাব, বোরকা সবচেয়ে বেশি কিনছেন। ইস্টার্ন পস্নাজার আল-জায়ান বোরকা বাজারের মালিক মো. নিরব বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর হলো আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় বিক্রি-বাট্টার সময়। পুরো রোজার মাস ধরেই এই কেনাকাটা করেন ক্রেতারা।

এ সময় কোনো কিছুই কেনাকাটার বাইরে থাকে না। বোরকা-হেজাব মূলত ধর্মীয় পোশাক। ঈদ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এটি এখন আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক প্রথার সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, এর ধর্মীয় দিকের চেয়ে সামাজিক দিকটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে অন্য সব পোশাকের মতো এ সময় হেজাব, বোরকার বিক্রিও বাড়ে। ক্রেতাদের চাহিদাকে সামনে রেখে আমরাও মার্কেট সাজাই। ক্রেতারা তাদের পছন্দ ও দামে পড়লে পছন্দের জিনিস ক্রয় করে নেন।’ ইস্টার্ন পস্নাজায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মার্কেট করতে আসেন ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় কেনাকাটার একটি আলাদা চাপ থাকে।

অন্যসব কাপড়ের সঙ্গে আমার স্ত্রীর জন্য এ সময় বোরকা ও হেজাবও কিনতে হয়। কারণ, আমার পরিবারের সব নারীই হেজাব, বোরকা পরে থাকে। ফলে ঈদের সময় হেজাব, বোরকা আমার পরিবারের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ তবে বোরকা-হেজাবের বাজারে গিয়ে যে জিনিসটি বিশেষভাবে লক্ষণীয় তা হলো অন্যসব পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতারা কাপড়ের মূল্য বেশি রাখার অভিযোগ করে থাকেন। তবে হেজাব-বোরকার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ একেবারেই শোনা যায়নি। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই দাম নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments