এবার তিস্তা চুক্তির জট খুলবে?

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ’ র ঐতিহাসিক বিজয়ের পর বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তির সুরাহা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাদের ভাষ্য মতে, ভারতের সাথে ঐতিহাসিক ভাবেই আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক। কালের পরিক্রমায় এই সম্পর্ক দিনকে দিন আরও উন্নতি হচ্ছে। কারণ, ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের ক্ষমতাসীন সরকার আওয়ামী লীগ কখনও মদদ দেয় না বলে ভারত সরকারের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে, ভারতের দাবি তাদের দেশের স্বাধীনতাকামী রাজ্যগুলোকে পাকিস্তান ও চীন মদদ দিচ্ছে। যাতে ভারতের এসব রাজ্য নিজেরে দেশের মধ্যে আলাদা হতে পারে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে তারা পাকিস্তান ও চীনের মতো তাদের দেশের স্বাধীনতাকামী রজ্যগুলোকে কোন ধরনের মদদ দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশ সরকারের এই ঋণ শোধ করা। দক্ষিণ এশিয়ার মাঝে ভারতের সবচেয়ে কাছের বন্ধু রাষ্ট্র হল বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেকরা বলতে শুরু করেছেন, এবারের লোকসভার নির্বাচনের ফলাফলের পর এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, তিস্তা চুক্তির বিরোধীতাকারী মমতার আর সেই সক্ষমতা আর নেই। বিশ্বের তামাম চুক্তি হয় দুটি রাষ্ট্রের মাঝে। এখানে প্রাদেশিক সরকার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। মমতার কল্যাণে তিস্তা চুক্তি করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এবারে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে মমতার পশ্চিমবঙ্গে মোদী সরকার বিশাল জয় পেয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী।

এ বিষয়ে বাংলাদেশর সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ন কবির বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক বিষয়ে চুক্তি সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি সরকার। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলেই দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সমস্যা ছিটমহল, সমুদ্র সীমানার মতও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোরও সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি বহুল প্রতিক্ষীত তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য। তিস্তা চুক্তিসহ দুই দেশের মাঝে বিদ্যমান থাকা নানা সমস্যাগুলোর সমাধান এবার হবে বলে আশা করি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দল সামলাতেই হিমশিম খাবে। লোকসভার এমন নির্বাচনী ফলাফল তাকে ইতোমধ্যেই ভাবিয়ে তুলেছে। সামনের দিনে তার বিধানসভার নির্বাচনে কর্তৃত্ব থাকে কী না? তাই এখন হুমকির মুখে পড়ে গেছে। এ অবস্থায় মনে হয় না, তিস্তা চুক্তির বিরোধীতার কথা মাথায় আনবে। আমার ব্যক্তিগত মত হল, এই মুহূর্তে এমন কিছু করবেন না যাতে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মমতা কেন তিস্তা চুক্তিতে সই করেননি? কারণ জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চেষ্টা থেকে। আগামী ২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা খুব কম। বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় চলে আসে তখন চুক্তির সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে সেটাও নাও করতে পারে। যারা তাদের ভোট দেবে তাদের খুশি রাখার চেষ্টা করবে দলটি।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অনেকদিন ধরে বলে আসছে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে তারা আন্তরিক। কিন্তু রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের সরকার, মমতা বন্দ্যোপধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে তিস্তা চুক্তি করতে পারেনি। বিশেষ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মুহাম্মদ আলীকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন, বিজেপি সরকারের আমলেই তিস্তা চুক্তি হবে। আমরা রাজ্য সরকারকে বুঝাতে চেষ্টা করছি। আমাদের কোন আন্তরিকতার ঘাটতি নেই তিস্তা চুক্তির বিষয়ে। এই (তিস্তা) চুক্তি বিজেপি সরকারের শাসন আমলেই হবে। অতএব বাংলাদেশের মানুষ আশাবাদী এবার তিস্তা চুক্তি হবে। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন আশাবাদ ব্যক্ত করে একটি গণমাধ্যমে বলেছেন, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। এক বন্ধু রাষ্ট্র অন্য বন্ধু রাষ্ট্রের কখনও খারাপ চাইবে না। আশাকরি এবার অমীমাংসিত সকল অধ্যায়ের সমাধান ভারত করবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments