এনজিওর বদলে এজেন্ট ব্যাংকিং চাহিদা বাড়ছে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

এনজিও ঋণের সুদহার ২৭ শতাংশ। ঋণ নেওয়ার দিন থেকে পরিশোধের কিস্তি শুরু হয়ে যায়। এ ঋণ নিয়ে কোনো গ্রাহকের কাজ হোক বা না হোক এনজিও ব্যবসা হয়। অন্যদিকে পল্লী অঞ্চলে ক্ষুদ্র পরিসরে কিন্তু ব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং করা হচ্ছে। ফলে এনজিও ঋণের বিকল্প হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, যেসব এলাকায় ব্যাংক নেই বা ব্যাংক চলার মতো যথেষ্ট ব্যবসা কেন্দ্রও গড়ে ওঠেনি, কিন্তু কর্মকাণ্ড বাড়ছে, মানুষের আয়ও বাড়ছে, দোকানপাট আছে-এমন স্থানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া ১৯টি ব্যাংক এজেন্ট নিয়োগ দিচ্ছে। এসব এজেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত রেখে জামানতের বিপরীতে গ্রাহকদের কাছে থেকে আমানত সংগ্রহ করছে।

দিন শেষে এজেন্টরা আমানতের টাকা ব্যাংকে জমা রেখে আসছেন। এজেন্টরা স্বল্প পরিসরে ঋণও বিতরণ করছেন। তবে প্রধানত ব্যাংক শাখার ‘পোস্ট অফিস’ হিসেবে কাজ করছে এজেন্ট ব্যাংকিং। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ব্যাংকমুখী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব সংখ্যা (অ্যাকাউন্ট) দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৫টি। এসব মানুষের জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে সারা দেশে ৭ হাজার ৮৩৮টি আউটলেট খোলা হয়। এসব আউটলেটের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে এগিয়েএমন একটি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকতা বলেন, সামনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জন্য সুখবর আছে। এভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং এগিয়ে গেলে, এজেন্ট ব্যাংকিংকে আরও নীতি সহায়তা দিলে এবং ঋণ বিতরণের হার বাড়িয়ে দিলে এটি একসময় এনজিওর স্থান দখল করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র মতে, মূলধারার ব্যাংকিং এখনো সাধারণের মানুষের কাছে কঠিন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সব থানার ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রে থাকলেও সেখানে গ্রাহক সেবা মানুষ সাধারণ মানুষের উপযোগী নয়। এ ছাড়া দালালের কব্জায় থাকে এসব ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত এসব ব্যাংকে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারলেও অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করার সাহস পায় না। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ধারে কাছে না থাকার পাশাপাশি ব্যাংকের সাজসজ্জা উন্নত হওয়ার কারণে প্রবেশ করতেই সাহস পায় না। এ অবস্থায় ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং করার ফলে সাধারণ মানুষ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, শহরের তুলনায় পল্লী অঞ্চলে এজেন্টের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি সঞ্চয়ের হারও বেশি। গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষ অল্প অল্প সঞ্চয় করেই এসব আউটলেটে জমা করছে। অন্যদিকে শহরের যেসব অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শুরু হয়েছে সেগুলো তুলনামূলক কম উন্নত, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং শিল্প এলাকায়। শহরের শ্রমিক ও নিম্মআয়ের মানুষের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। তথ্যানুযায়ী, ৭ হাজার ৮৩৮টি আউটলেটের মধ্যে গ্রামে আউটলেট খোলা হয়েছে ৭ হাজার ৮৬টি। অন্যদিকে শহরে রয়েছে মাত্র ৭৫৪টি।

প্রবাসীদের পাঠানো প্রবাসী আয় বণ্টনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করছে এজেন্ট ব্যাংকিং। এ পর্যন্ত ১৭টি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৭ হাজার ১৮২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা প্রবাসী আয় বিতরণ করা হয়েছে। বিপুল অঙ্কের এ টাকার মধ্যে পল্লী অঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে শহরের মানুষের কাছে প্রবাসী আয় বিতরণ করা হয়েছে ৭২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ কম আয়ের এবং অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর কিন্তু অগ্রসরমান এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসার হচ্ছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box