এক সাংবাদিকের উপর মামলা; অন্য সাংবাদিকের মুখে হাসি!

এম. রিদুয়ানুল হক

গণতান্ত্রিক দেশে মামলা-হামলা চলবে এটা স্বভাবিক। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। আইন নিজের গতিতেই চলবে। ম্যাজেস্ট্রেট কোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই এই আইন চলমান। আইনের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল। দেশের আইন সম্পর্কে কারো মুখে কটু কথা মোটেও মাননসই নয়। দেশের কুলি-মজুর থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সবশ্রেণির মানুষ কেউ না কেউ প্রতিদিন মামলা-হামলার শিকার হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। আজ আমার বিরুদ্ধে কাল অন্য কারো বিরুদ্ধে এই মামলা-হামলা চলবেই। তবে কারো দুঃসময়ে মুখে হাসি দিয়ে তামাশা করা কোনো মতেই গ্রহণ যোগ্য মনে করছি না। কারো দুঃখে মর্মাহত হতে না পারলেও, তামাশা করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

নাম আব্দুল মজিদ। পেশায় সাংবাদিক। তিনি বর্তমান চকরিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি। তিনি দৈনিক হিমছড়ি, দৈনিক মানবকণ্ঠসহ বেশকিছু প্রত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি। এছাড়াও তিনি চকরিয়া নিউজ২৪. কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চকরিয়ার আনাচে-কানাচে সাংবাদ তৈরি করার জন্য ঘুরে বেড়ান তিনি। চকরিয়া তথা কক্সবাজারের সবপেশার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত।

সঠিক হোক বা বেঠিক হোক, কোনো কারণেই সাংবাদিক আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি চকরিয়া ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা হয়েছে। এই মামলার বাদী হলেন চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসার ইফতেখার উদ্দিন আরাফাত। তিনি ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটও বটে। সাংবাদিক আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন নিজেই বাদী হয়ে। এই মামলা চালাবেন সাংবাদিক আব্দুল মজিদ নিজেই। কিন্তু এটি নিয়ে গুটিকয়েক সাংবাদিক তিলকে তাল বানাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু কেন? একটু চিন্তা করে দেখেন- যারা এটি নিয়ে তামাশা করছেন, সেখানে আব্দুল মজিদ না হয়ে যদি আপনাদের কেউ আসামি হতেন, তখন কি তামাশা করতেন? নাকি প্রতিবাদ জানাতেন?

যাক, তামাশা করুন বা প্রতিবাদ করুন; এটি আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে মনে রাখা উচিৎ- বিপদে বন্ধুর পরিচয়। তিনি বিপদে পড়েছেন এটি একজন সাংবাদিকের জন্য সামান্য বিষয়। আমাদের দেশের হাজার হাজার সাংবাদিক সময়ের বিবর্তনে আরো মারাত্মক মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন, হচ্ছেন এবং হবেন। সাংবাদিকের সামনে কতশত বিপদ আসবে যাবে, এটি ইতহাসে প্রমাণিত। এই ধরনের মামলায় কোনো সাংবাদিকের জন্য হয়ত শুভ হতে পারে আবার অশুভও হতে পারে। যেটাই হোক, তামাশা করবেন কেন? আজ যাকে নিয়ে কুনজর দিচ্ছেন, হয়ত সময়ের ব্যবধানে আপনাকেও আরো বেশি কুনজর দিতে দেরি করবে না।

কথায় আছে- সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশার ওপর আঘাত এলে কোনো সাংবাদিক বসে থাকতে পারে না। সেটি সত্য হোক অথবা মিথ্যা হোক; সমাধানের পথে আপনার সহযোগিতা থাকতে হবে। কিছু করতে না পারলেও আইনের কাজে সহযোগিতা করতে পারেন। যদি এটিও সম্ভব না হয়, তাহলে প্লিজ আপনার হাসি বা তামাশা বন্ধ করুন। কেনই বা অপরের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন? মনে রাখবেন, আপনার ক্ষতি অতি নিকটবর্তী।

আমি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নই। আমি সকল আদর্শবান সাংবাদিককে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। যেকোনো আদর্শবান সাংবাদিকের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমি একজন সামান্য কলম সৈনিক হিসেবে সকল কলম সৈনিকের কাছে বিনীত আবেদন করবো- আসুন, একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করি। সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিনীত আহবান জানাচ্ছি।

পরিশেষে চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসার ইফতেখার উদ্দিন আরাফতের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো মামলা-হামলা দিয়ে কোনো কলম সৈনিককে ধমানো যায় না। আপনি যেহেতু এই মামলার নিজেই বাদী, সেহেতু আপনি চাইলে এখনই এই মামলার ইতি টানতে পারবেন। কেউ ভুলের উধ্বে নয়। ভুল হলে সমাধানের পথ দেখিয়ে দিন। প্লিজ, প্লিজ।

লেখক: শিক্ষক, সংগঠক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী

Facebook Comments Box